চকোলেট দিবস

ভালবাসার মিষ্টতা যখন ইলানো টেম্প্‌ট-এ

হৃদয়ের কথা যখন ভাষায় নয়, স্বাদে প্রকাশ পায়। আজ প্রিয় মানুষকে চকোলেট উপহার দেওয়ার দিন।

ইংরেজিতে একটি বহু পুরোনো প্রবাদ আছে, ‘সে ইট উইথ সামথিং সুইট।’ অর্থাৎ মনের গহিন কথাটি যখন বলবেন, সঙ্গে থাকুক মিষ্টি কিছু। সম্ভবত এই দর্শনের ওপর ভিত্তি করেই প্রিয় মানুষকে চকলেট উপহার দেওয়ার রেওয়াজটি বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হয়েছে। আজ ৯ ফেব্রুয়ারি, এই দিনের মানেই তাই ক্যালেন্ডারের পাতায় ‘চকলেট দিবস’।

আজকের দিনটি শুধু ক্যালরি ভুলে মিষ্টি স্বাদে ডুবে থাকার নয়, বরং প্রিয়জনের হাতে সেরা উপহারটি তুলে দেওয়ারও দিন। বসন্তের আগমনে যখন প্রকৃতি সেজে উঠছে, ঠিক সেই সময়টাতে প্রিয় মানুষের হাতে চকলেট তুলে দিয়ে নিজের অনুভূতির গভীরতা বোঝাতে চান অনেকেই। তবে যারা প্রকৃত চকলেটপ্রেমী, তাদের কাছে এটি শুধুই একটি ক্যালেন্ডারের দিন নয়; চকলেট তাদের কাছে প্রতিদিনের সঙ্গী।

দুই সহস্রাব্দের মিষ্টতা: চকলেটের বিবর্তন

চকলেটের ইতিহাস আজকের নয়, বরং তা অন্তত দুই হাজার বছরের পুরোনো। প্রাচীনকালে কোকোবীজ থেকে তৈরি একধরনের তেতো স্বাদের পানীয় প্রথম জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। মায়ান ও আজটেক সভ্যতায় কোকোবীজ কেবল খাবারের অনুষঙ্গ ছিল না, তা ছিল আভিজাত্য ও বিশ্বাসের প্রতীক। কোথাও কোথাও এটি মুদ্রার বিকল্প হিসেবেও ব্যবহৃত হতো। এমনকি প্রাচীন এই সভ্যতাগুলোতে কোকোবীজের ব্যবহার ছিল ধর্মীয় রীতিনীতিতেও।

তখন বিশ্বাস করা হতো, এই বীজের মধ্যে নিহিত রয়েছে এক রহস্যময় ও ঐশ্বরিক শক্তি। সেই তেতো পানীয় থেকে আজকের মখমলের মতো মসৃণ চকলেটে রূপান্তরের গল্পটি যেমন চমকপ্রদ, তেমনি আভিজাত্যে ঘেরা। আদিম রহস্য আর আভিজাত্যের স্বাদই আজ বিবর্তিত হয়ে আধুনিক চকলেটের রূপ নিয়েছে।

বাংলাদেশে জনপ্রিয়তা বাড়ছে

বাংলাদেশে চকলেটের জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে। ছোট শিশু থেকে শুরু করে তরুণ-তরুণী বা প্রবীণ—চকলেটের আবেদন সবার কাছেই সমান। এই চাহিদার ওপর ভর করে দেশে চকলেটের বাজার দিন দিন বড় হয়ে উঠছে। তবে এই অগ্রগতির ভিড়েও একটি বড় আক্ষেপ মানসম্মত সাশ্রয়ী দামের চকলেটের অভাব।

দেশের বাজারে পাওয়া যায়, এমন বেশির ভাগ অভিজাত চকলেটই আমদানিনির্ভর, যা সুপারশপগুলোতে উচ্চমূল্যে বিক্রি হয়। উচ্চমূল্যের সুযোগ নিতে মানহীন নকল চকলেট বাজারে বড় অংশ দখল করে ছিল। এসব বেনামি প্রতিষ্ঠানগুলা অনেক ক্ষেত্রে উৎপাদন খরচ কমাতে পাম অয়েল বা ডালডা ব্যবহার করেছে, যা চকলেটের আসল স্বাদ নষ্ট করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে দেশের সাধারণ ভোক্তারা চকলেটের প্রকৃত স্বাদ থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন। এই বাজারে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত চকলেটগুলো প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে ছিল। এখন দেশি কোম্পানিগুলো মানোন্নয়ন ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ব্র্যান্ডের চকলেট তৈরিতে এগিয়ে আসছে। 

বাংলাদেশের ভোজনরসিকদের তৃপ্তি দিতে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী আকিজ বেকার্স লিমিটেড কাজ করে যাচ্ছে। তারা গ্রাহকদের ‘রিয়েল চকলেট’ বা আসল চকলেটের স্বাদ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি নিয়ে বাজারে নিয়ে এসেছে বেশ কিছু ক্যাটাগরির পণ্য। বিশেষ করে চকলেট দিবসের এই দিনে মানুষের প্রত্যাশা যখন তুঙ্গে থাকে, তখন Hi5 Fondalo, Hi5 Dimbo, Hi5 Amora-এর মতো পণ্যগুলো ইতিমধ্যে মানুষের আস্থার জায়গা তৈরি করেছে। বিশেষ করে Hi5 Fondalo বাংলাদেশের চকলেট বাজারে একটি তুমুল জনপ্রিয় ব্রান্ডে পরিনত হয়েছে অল্পদিনের মধ্যেই। চকলেট প্রেমিদের মধ্যে এর উন্মাদনা অনেক বেশি লক্ষ্য করা গেছে।

দেশের মাটিতে বিলেতি স্বাদ

এবারের বড় চমক হলো ইংল্যান্ডের ‘চকোট্রিইউকে চকলেট & বেকারি লিঃ'-এর প্রিমিয়াম চকলেট বার ‘ইলানো টেম্প্‌ট’।  চকোট্রিইউকে মূলত ইংল্যান্ডের একটি চকলেট ও বেকারি কোম্পানি। বিলেতি ফর্মুলায় উৎপাদিত এই চকলেট যুক্তরাজ্যের গুণমান এবং ম্যানুফ্যাকচারিং স্ট্যান্ডার্ড অত্যন্ত কঠোরভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে। এর ফলে দেশের মানুষ এখন হাতের কাছেই সাশ্রয়ী মূল্যে সেই অথেন্টিক ইউরোপীয় চকলেটের স্বাদ পাচ্ছেন।

এছাড়াও তাদের পণ্য তালিকায় রয়েছে “ইলানো ক্রিমেল”, “ইলানো ডিপস্টিক”, “ইলানো সি এন্ড এন” এর মত ক্রেতা সমাদৃত চকলেট পণ্য।

স্বাদের রসায়ন: প্রিমিয়াম ও ব্যালান্সড

একটি ভালো মানের চকলেটের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর টেক্সচার। উন্নত মানের কাঁচামাল এবং কোকোয়া পাউডারের পাশাপাশি ‘কোকোয়া মাস’ ব্যবহারের ফলে এই প্রিমিয়াম চকলেটগুলো পায় এক মসৃণ ও রেশমি ভাব। এতে ব্যবহৃত প্রাকৃতিক ফ্লেভার ও আসল চকলেটের সুঘ্রাণ চকলেট খাওয়ার অভিজ্ঞতাকে করে তোলে অনন্য।

 বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণী সাহারা সারার মতে, প্রিমিয়াম চকলেটের আসল জাদু হলো তার স্বাদ। তিনি বলেন, ‘চকলেটের স্বাদে অনেক সময় তারতম্য থাকে, মিষ্টি কম–বেশি মনে হয়। তবে ভালো মানের চকলেটে স্বাদটা থাকে একদম ব্যালান্সড, যা মুখে দিলেই গলে যায়, ইলানো টেম্প্‌ট আমার কাছে তেমনই একটি চকোলেট মনে হয়েছে।’ এই অনুভূতির কারণেই মানুষ বারবার চকলেটের কাছে ফিরে আসে।

দামে সাশ্রয়ী, মানে আপসহীন

সাধারণত বাজারে প্রচলিত প্রিমিয়াম ব্র্যান্ডের বড় সাইজের চকলেট বারগুলোর (যেমন ক্যাডবেরি সিল্ক ১৪০ গ্রাম) দাম প্রায় ৫৪০ থেকে ৫৮০ টাকার ঘরে। ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বা মধ্যবিত্তের জন্য নিয়মিত এই স্বাদ নেওয়া কিছুটা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে আশার কথা হলো, প্রিমিয়াম চকলেটগুলো এই দূরত্ব ঘুচিয়ে দিয়েছে। ক্যাডবেরি সিল্কের ৫৫ গ্রামের দাম যেখানে ২৪০ টাকা, সেখানে একই ওজনের ইলানো টেম্প্‌ট পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১২০ টাকায়। আবার ইলানো টেম্প্‌ট-এর ১১০ গ্রামের বড় ইউনিটটির দাম মাত্র ২০০ টাকা, যা বাজারে প্রচলিত বিদেশি ব্র্যান্ডগুলোর তুলনায় অর্ধেকের কম মূল্যে গ্রাহকের নাগালে থাকছে। এই সাশ্রয়ী মূল্যের কারণে চকলেট দিবসে উপহার দেওয়া এখন আর পকেটের ওপর বড় চাপ নয়।

আকিজ বেকার্স লিমিটেডের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর (মার্কেটিং) শফিকুল ইসলাম তুষার বলেন, ‘আমাদের দেশে মানুষের রুচি ও চাহিদা অনুযায়ী প্রিমিয়াম চকলেটের পর্যাপ্ত জোগান ছিল না। আমরা চেয়েছি গ্রাহকদের সেরা চকলেটের অভিজ্ঞতা দিতে।’ তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে,

বাংলাদেশের গ্রাহকদের সামর্থ্যের মধ্যে ইউরোপিয়ান চকলেটের স্বাদ দিতে আমরা চকোট্রিইউকে এর পক্ষে ইলানো টেম্প্‌ট বাজারজাত করছি, যার প্রতিটি চকলেট বার আকর্ষণীয় ও ভিন্ন ভিন্ন ডিজাইনের যা ইতোমধ্যে চকলেট প্রেমীদের মধ্যে দারুন সারা ফেলেছে।

এবারের চকলেট দিবস হোক খাঁটি

আজকের দিনটি ভালোবাসা প্রকাশের দিন। আর সেই প্রকাশের ভাষা যদি হয় একটি খাঁটি চকলেট, তবে তার মিষ্টতা থেকে যায় আজীবন। নিম্নমানের অস্বাস্থ্যকর চকলেটের ভিড়ে আপনি যখন আপনার প্রিয় মানুষের হাতে আসল কোকোয়ার গন্ধে ভরা একটি রিয়েল চকলেট বার তুলে দেবেন, তখন সেই উপহারটির মর্যাদা কয়েক গুণ বেড়ে যায়।

তাই চকলেট দিবসে ক্যালরি নয়, বরং মনোযোগ দিন গুণগত মানের দিকে। প্রিয় মানুষকে উপহার দিন সেরা স্বাদের নিশ্চয়তা। কারণ, একটি ভালো মানের চকলেট কেবল জিহ্বায় মিষ্টি স্বাদ আনে না, তা মনেও ছড়ায় প্রশান্তি। সবাইকে চকলেট দিবসের শুভেচ্ছা।