পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরের শহীদ ক্যাপ্টেন আশরাফ হলে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়
পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরের শহীদ ক্যাপ্টেন আশরাফ হলে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়

যৌথ সংবাদ সম্মেলন

সীমান্তে হত্যা নিয়ে উদ্বেগ বিজিবির, পুনরাবৃত্তি না করার প্রতিশ্রুতি বিএসএফের

বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের ৫৬তম সম্মেলনে সীমান্তে হত্যার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী।

এর জবাবে সীমান্তে অতিরিক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা বলেছেন ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) মহাপরিচালক দালজিৎ সিং চৌধুরী। তিনি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় রাতে টহল জোরদার করে সীমান্ত হত্যার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে সে ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বিজিবির সদর দপ্তরের শহীদ ক্যাপ্টেন আশরাফ হলে যৌথ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই তথ্য তুলে ধরা হয়। এই সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের চার দিনব্যাপী ৫৬তম সীমান্ত সম্মেলন আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে। গত মঙ্গলবার এই সম্মেলন শুরু হয়। মহাপরিচালক পর্যায়ের চার দিনের এই সম্মেলন শেষ হয় যৌথ আলোচনার দলিল স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে।

সম্মেলনে বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীর নেতৃত্বে ২১ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করে। অন্যদিকে বিএসএফ মহাপরিচালক দালজিৎ সিং চৌধুরীর নেতৃত্বে ১১ সদস্যের ভারতীয় প্রতিনিধিদল সম্মেলনে অংশ নেয়। 

যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিজিবি মহাপরিচালক বিএসএফ কর্তৃক অবৈধভাবে বিভিন্ন ব্যক্তি, ভারতীয় নাগরিক ও বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের বাংলাদেশে পুশ ইনের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং অনুপ্রবেশকারীদের প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানান। বিএসএফ মহাপরিচালক ভারতে অবৈধভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের পারস্পরিকভাবে সম্মত প্রক্রিয়া অনুযায়ী ফেরত পাঠানোর আশ্বাস দেন।

সংবাদ সম্মেলনে ভারত থেকে নাগরিকদের বাংলাদেশে ‘পুশ ইন’ (ঠেলে পাঠানো) বিষয়ে প্রশ্ন করেন একজন সাংবাদিক। জবাবে বিএসএফ মহাপরিচালক বলেন, যাঁরা অনুপ্রবেশকারী, শুধু তাঁদের বিরুদ্ধেই নিয়ম মেনে ‘পুশ ইন’ করা হচ্ছে। শুধু যাঁরা অবৈধভাবে ভারতে বসবাস করছেন, তাঁদেরই ‘নিয়ম মেনে’ বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৫৫০ জনকে বিজিবির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এবং আরও ২ হাজার ৪০০ ‘কেস’ যাচাই–বাছাইয়ে রয়েছে বলে জানান তিনি।

সীমান্তে হত্যা বন্ধ করা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে বিএসএফ মহাপরিচালক বলেন, সীমান্ত এলাকায় বিএসএফ সদস্যরা প্রথমে সতর্ক করেন ও বাধা দেন। শেষ পদক্ষেপ হিসেবে তাঁরা গুলি করেন।

তবে বিএসএফের মহাপরিচালকের এই বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন বিজিবির মহাপরিচালক। তিনি বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশের একজন অল্প বয়সী নাগরিককে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে হত্যা করেছে বিএসএফ। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ওই শিশু বর্ডার নিরাপত্তার জন্য কতটুকু ঝুঁকিপূর্ণ ছিল? তবে বিষয়টি নিয়ে আর কোনো কথা বলেননি বিএসএফের মহাপরিচালক।

এবারের সম্মেলনে সীমান্ত হত্যা বন্ধে বিজিবি ও বিএসএফ কী ধরনের সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে, জানতে চাইলে বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী বলেন, এ বিষয়টি এবার সীমান্ত সম্মেলনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হয়েছে।