ভারতের কাশ্মীরে হাউসবোটে অগ্নিদুর্ঘটনায় নিহত গণপূর্ত বিভাগের দুই প্রকৌশলীসহ তিনজনের মরদেহ গতকাল বুধবার ঢাকায় এসে পৌঁছেছে। নিহত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার জন্য ডিএনএ পরীক্ষার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে স্বজনেরা ঢাকা সিআইডি কার্যালয়ে গিয়ে তাঁদের নমুনা দিয়ে এসেছেন।
কাশ্মীরে দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিরা হলেন রাঙামাটি গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী অনিন্দ্য কৌশল (৩৬), খাগড়াছড়ি গণপূর্ত বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ইমন দাশগুপ্ত (৩৪) ও ঠিকাদার মাইনুদ্দিন। ১১ নভেম্বর কাশ্মীরের ডাল লেকে হাউসবোটে অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু হয় তাঁদের। নিহত তিনজনই চট্টগ্রাম জেলার বাসিন্দা।
কাশ্মীরে এক দফা ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহগুলো ঢাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। গতকাল মরদেহ আসার পর চট্টগ্রাম থেকে নিহত ব্যক্তিদের স্বজনেরা ঢাকায় যান। পুড়ে যাওয়ায় মরদেহ শনাক্ত করা যাচ্ছে না। তাই ডিএনএ পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত হয়।
গতকাল ও আজ বৃহস্পতিবার সিআইডি কার্যালয়ে নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের রক্তসহ বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করা হয়। অনিন্দ্যর বাবা স্বপন কুমার নাথ ও মা উমা নাথ নমুনা দিয়ে আজ চট্টগ্রামে ফিরেছেন।
স্বপন কুমার নাথ প্রথম আলোকে বলেন, ‘ডিএনএ পরীক্ষার পর আমরা মরদেহ বুঝে পাব। আমরা দুজন, ইমনের মা এবং মাঈনুদ্দিনের বাবা ও মেয়ে নমুনা দিয়েছেন। কত দিন সময় লাগবে, এখনো বুঝতে পারছি না।’
৩ নভেম্বর চট্টগ্রাম থেকে তিন পর্যটক ভারতের উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে তাঁরা জয়পুর, দিল্লি, আজমির শরিফ, আগ্রাসহ বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ান। শুক্রবার তাঁরা পা রাখেন শ্রীনগরে। সেখানে ওই দিন বিকেলে ওঠেন ডাল লেকের একটি হাউসবোটে। সেখানেই ওই দুর্ঘটনা ঘটে।