রংপুরে অবস্থিত কারুপণ্য রংপুর লিমিটেডের গ্রিন ফিল্ড ফ্যাক্টরি
রংপুরে অবস্থিত কারুপণ্য রংপুর লিমিটেডের গ্রিন ফিল্ড ফ্যাক্টরি

মর্যাদাপূর্ণ ‘রিবা আন্তর্জাতিক পুরস্কার ২০২৬’ পেল রংপুরের কারখানা

স্থাপত্যক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ‘রিবা আন্তর্জাতিক পুরস্কার ২০২৬’ জিতেছে রংপুরে অবস্থিত কারুপণ্য রংপুর লিমিটেডের গ্রিন ফিল্ড কারখানা।

দ্য রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব ব্রিটিশ আর্কিটেক্টস (রিবা) গতকাল বৃহস্পতিবার এ পুরস্কার ঘোষণা করে। রিবার ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজে এ-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

কারুপণ্য রংপুর লিমিটেড শতভাগ রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান। কারুপণ্য রংপুর লিমিটেডের উদ্যোক্তা সফিকুল আলম সেলিম।

কারখানাটির নকশা করেছে বাংলাদেশের স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান নকশাবিদ আর্কিটেক্টস। নকশাবিদ আর্কিটেক্টসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই পুরস্কার জয়ের তথ্য জানিয়ে বলা হয়, কারখানাটির প্রধান স্থপতি বায়েজিদ মাহবুব খন্দকার।

কারখানাটির নকশা সম্পর্কে বায়েজিদ মাহবুব বলেন, ‘আমরা দেখাতে চেয়েছিলাম, শিল্পপ্রতিষ্ঠানও প্রাণ পেতে পারে, যত্নশীল হতে পারে, মানুষকে অনুপ্রাণিত করতে পারে।’

স্থাপত্য দলটির লক্ষ্য সম্পর্কে বায়েজিদ মাহবুব বলেন, কারখানাটিতে কর্মরত মানুষের আপন ঠিকানা হিসেবে স্থাপত্যটিকে গড়ে তোলাই ছিল তাঁদের উদ্দেশ্য। একটি কারখানা এমন কোনো যন্ত্র হওয়া উচিত নয়, যা মানুষের শক্তি শুষে নেয়; বরং তা এমন একটি প্রাণবন্ত জায়গা হওয়া উচিত, যা মানুষের শক্তি ফিরিয়ে দেয়।

পুরস্কারটির তাৎপর্য তুলে ধরেন বায়েজিদ মাহবুব খন্দকার। তিনি বলেন, শ্রমিকেরা সমাজে প্রান্তিক অবস্থানে থাকতে পারেন। তাঁদের আয়ও কম হতে পারে। কিন্তু এই জায়গাটি নিয়ে তাঁদের গর্ববোধ আছে। এখানে তাঁদেরও সমানভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

২০১৫ সালে প্রবর্তিত এ পুরস্কার দুই বছর পরপর দেওয়া হয়। যুক্তরাজ্যের বাইরে নির্মিত এমন কোনো ভবনকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়, যার নকশায় দূরদর্শী চিন্তা ও মৌলিকত্ব রয়েছে। আর যেটি চমৎকারভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। পাশাপাশি ভবনটি এর ব্যবহারকারী, আশপাশের পরিবেশ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য স্বতন্ত্র অবদান রাখে।

গত মাসে এই পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল। এই তালিকায় চারটি প্রকল্প স্থান পেয়েছিল, যার দুটিই বাংলাদেশের। এগুলো হলো রংপুরের গ্রিন ফিল্ড কারখানা ও ঢাকায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। অপর দুটি প্রকল্প বেলজিয়ামের। সেগুলো হলো রয়্যাল বেলজ ও জেড৩৩।

কারখানাটির নকশা করেছেন নকশাবিদ আর্কিটেক্টসের প্রধান স্থপতি বায়েজিদ মাহবুব খন্দকার

সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করে গ্রিন ফিল্ড কারখানা সম্পর্কে রিবা বলেছিল, কারখানাটিকে শুধু কাজের জায়গা হিসেবে নয়, কর্মীদের সুস্থতা ও কমিউনিটির জন্যও একটি পরিসর হিসেবে নতুনভাবে ভাবা হয়েছে। এখানে এমন কর্মপরিবেশ তৈরি করা হয়েছে, যেখানে প্রাকৃতিকভাবে বাতাস চলাচল করে। কর্মীরা আশপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে পারেন। এখানে সবুজায়ন, প্রাকৃতিক আলো ও বাতাসের প্রবাহ কাজে লাগানো হয়েছে। এতে যান্ত্রিক শীতাতপনিয়ন্ত্রণের ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি বিশ্রাম, পারস্পরিক যোগাযোগ ও বিনোদনের জন্যও বিভিন্ন পরিসর তৈরি হয়েছে। কর্মীদের অভিজ্ঞতা ও সুস্থতাকে নকশার কেন্দ্রে রেখে গ্রিন ফিল্ড দেখিয়েছে, শিল্পস্থাপত্য কীভাবে শহরের পুনরুজ্জীবনে ভূমিকা রাখতে পারে।

পুরস্কার জয়ের ঘোষণা দিয়ে রিবার ফেসবুক পোস্টে বলা হয়, নকশাবিদ আর্কিটেক্টসের নকশায় তৈরি এ কারখানা নির্মাণ ও পরিচালনার ক্ষেত্রে একটি বিকল্প মডেল তুলে ধরেছে। রংপুরে অবস্থিত গ্রিন ফিল্ড কারখানাটি প্রচলিত কর্মপরিবেশের ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানায়। পাশাপাশি কারখানাটি সেখানে কর্মরত অধিকাংশ নারী শ্রমিকের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছে।

কারুপণ্য রংপুরের উদ্যোক্তা সফিকুল আলম সেলিম

রিবার ওয়েবসাইটে বলা হয়, গালিচা তৈরির এ কারখানা শুধু কর্মস্থল নয়, এখানে কর্মীদের সুবিধা ও সুস্থতার জন্য প্রাকৃতিক পরিবেশের সব দিককে কাজে লাগানো হয়েছে।