
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তত চারজন সাংবাদিকের ওপর ৪ অক্টোবরের হামলার ঘটনার দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস বা সিপিজে। একই সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর এ সহিংসতার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আজ মঙ্গলবার দেওয়া এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কভিত্তিক সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষাকারী বৈশ্বিক সংগঠনটি এ দাবি জানায়।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আবাসিক হলের সামনে একটি ঘটনার সংবাদ সংগ্রহের সময় ‘ডেইলি স্টার’, ‘সমকাল’, বিডিনিউজ ও ‘আগামীর সময়’ পত্রিকার ক্যাম্পাস প্রতিনিধিদের লাঠিসোঁটা দিয়ে পিটিয়ে আহত করা হয়। ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ছাত্রসংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা এ হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। হামলায় আহত চার সাংবাদিককেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সিপিজে বলেছে, হামলাকারীদের স্পষ্ট ভিডিও ফুটেজ থাকার খবর পাওয়া গেলেও ৫ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। এমন পরিস্থিতিতে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি উঠেছে।
সিপিজে বলেছে, হামলাকারীদের স্পষ্ট ভিডিও ফুটেজ থাকার খবর পাওয়া গেলেও ৫ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে থানায় একটি মামলা করেছে।
দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে সাংবাদিকেরা যেন কোনো ধরনের ভয়ভীতি ও সহিংসতা ছাড়াই নিরাপদে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সিপিজে। একই সঙ্গে এ ন্যক্কারজনক ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনার তাগিদ দিয়েছে মানবাধিকার সংগঠনটি।
উল্লেখ্য, হামলার এ ঘটনায় আহসান হাবীব, হাসিবুল ইসলাম ও বিশাল চক্রবর্তী নামের তিন নেতা–কর্মীকে ছাত্রদল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আরও ছয়জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
একই ঘটনায় শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহবুবুর রহমানকে অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। হামলার ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
গত রোববার রাত সাড়ে আটটার দিকে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাটি ঘটে। হামলায় চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা হলের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলামকে খুঁজতে সেখানে যান। তাঁদের কয়েকজনের হাতে চাপাতি, হকিস্টিক, পাইপ ও বেসবল ব্যাট ছিল। সাংবাদিকেরা ঘটনাটি ভিডিও করতে গেলে তাঁদের ওপর হামলা করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলায় সরাসরি অংশ নেওয়া সাতজনকে শনাক্ত করা গেছে। তাঁদের মধ্যে আছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীব, শরিফুল ইসলাম ও তাকবীর আহমেদ ইমন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, সহদপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলম, সহকারী সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাহজারুল ইসলাম ও ছাত্রদল কর্মী বিশাল চক্রবর্তী।
অর্থনীতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বিশাল চক্রবর্তী বর্তমানে ছাত্রদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এর আগে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লা-হিল-গালিবের অনুসারী ছিলেন।