হাইকোর্ট
হাইকোর্ট

শেরপুরে জামায়াত নেতা হত্যা মামলা: বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুলসহ ৪০ জনের আগাম জামিন

সংঘর্ষে জামায়াত নেতা রেজাউল করিমের মৃত্যুতে করা হত্যা মামলায় শেরপুর-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হকসহ দলটির ৪০ নেতা-কর্মীকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আগাম জামিন চেয়ে বিএনপির এই নেতা–কর্মীদের করা আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লা ও বিচারপতি ফয়সাল হাসান আরিফের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ সোমবার এই আদেশ দেন।

আদালতে উপস্থিত হয়ে মাহমুদুল হকসহ বিএনপির নেতা-কর্মীরা আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনের আবেদন জানান। তাঁদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. রুহুল কুদ্দুস, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী শাহদাত হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শিউলী খানম।

পরে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. রুহুল কুদ্দুস প্রথম আলোকে বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মামলাটি করা হয়েছে। মামলায় ২৩১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। রেজাউল করিমকে কে হত্যা করেছেন, তা সুনির্দিষ্ট করে উল্লেখ নেই। মূলত এসব যুক্তিতে জামিন চাওয়া হয়। শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট মাহমুদুল হকসহ ৪০ নেতা-কর্মীকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছেন।

গত ২৮ জানুয়ারি শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে। সেদিন বিকেলে ঝিনাইগাতী মিনি স্টেডিয়ামে শেরপুর-৩ আসনের (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) প্রার্থীদের ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সামনের সারিতে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা–কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পরে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। সন্ধ্যার আগে জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল তাঁর নেতা-কর্মীদের নিয়ে শহরের দিকে এগোতে চাইলে প্রশাসনের বাধার মুখে পড়েন। এ সময় বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে গুরুতর আহত হন রেজাউল করিম। পরে ময়মনসিংহে নেওয়ার পথে রাতেই তাঁর মৃত্যু হয়।

রেজাউল করিম শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ছিলেন। গত ৩০ জানুয়ারি রাতে তাঁর স্ত্রী মার্জিয়া বেগম ঝিনাইগাতী থানায় হত্যা মামলা করেন। এতে ২৩১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়। মামলায় শেরপুর-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হককে প্রধান আসামি করা হয়।