যুগপৎ আন্দোলনের প্রার্থীর সমর্থকদের আয়োজনে মাথাল প্রতীকে ভোট চেয়ে নির্বাচনী পথসভায় বক্তব্য দেন জোনায়েদ সাকি। শুক্রবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মাওলাগঞ্জ বাজার মাঠে
যুগপৎ আন্দোলনের প্রার্থীর সমর্থকদের আয়োজনে মাথাল প্রতীকে ভোট চেয়ে নির্বাচনী পথসভায় বক্তব্য দেন জোনায়েদ সাকি। শুক্রবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মাওলাগঞ্জ বাজার মাঠে

নির্বাচন বানচাল করতে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র আছে: জোনায়েদ সাকি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে বিএনপির শরিক দল গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী ও দলটির প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেছেন, নির্বাচন বানচাল করতে এখনো অনেকে ষড়যন্ত্র করছে, দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র আছে। তারা অভ্যুত্থানকে ব্ল্যাকমেল করতে চায়।

শুক্রবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মাওলাগঞ্জ বাজার মাঠে নির্বাচনী পথসভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান বক্তার বক্তব্যে জোনায়েদ সাকি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি মাথাল মার্কায় ভোট চান।

জোনায়েদ সাকি বলেন, অভ্যুত্থান রায় দিয়েছে, বাংলাদেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যারা অন্যায় করেছে, তাদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। অভ্যুত্থান রায় দিয়েছে, বাংলাদেশে আর কেউ ফ্যাসিবাদী কিংবা জমিদারিতন্ত্র কায়েম করতে পারবে না। এই দেশে সংস্কার করে ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরি করে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আর অভ্যুত্থান রায় দিয়েছে, মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যার জন্য নির্বাচন দরকার। তিনি আরও বলেন, যদি ন্যায়বিচার চাই, সংস্কার চাই এবং নতুন গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই—তাহলে নির্বাচন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। গণভোট, নির্বাচন ও সংবিধান সংস্কার—সবকিছুর ক্ষমতা জনগণের হাতেই।

মতবিনিময় সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে জোনায়েদ সাকি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হতে হবে। গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হতে হবে। মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। অনেকে কারচুপি করে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করতে পারে। তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্টরা যেভাবে প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসার রাজনীতি করে, আমরা নতুন বাংলাদেশের প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসার রাজনীতি করব না। জনগণের মধ্যে ঐক্য থাকলেই, গণতন্ত্র থাকলেই জনগণই পারবে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে।’

রাজনৈতিক ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরে জোনায়েদ সাকি আরও বলেন, ‘খেটে খাওয়া মানুষের নায্য হিস্যা, সব মানুষের—নারী-পুরুষ, ধর্ম-জাতি—পরিচয় যা–ই হোক না কেন, প্রত্যেকেরই মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেই দেশের মানুষের মধ্যে ঐক্য তৈরি করতে হবে। সেই দিনই আগামী দিনে আমাদের লক্ষ্য। আমরা আশা রাখি, বাংলাদেশের মানুষ যুগপৎ আন্দোলনের যে লড়াই, এই লড়াইকে বিজয়ী করবে এবং তারাই আগামী দিনের সরকার গঠন করবে। বিজয়ী হলে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন, সরকার গঠন করবেন।’

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুল খালেক। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মুসার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য রফিক সিকদার, জিয়া উদ্দিন ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি মেহেদী হাসান।