বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কাছে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের পক্ষ থেকে চিঠি হস্তান্তর করা হচ্ছে। বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন দলকে চিঠি দিয়েছে এই সংগঠন
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কাছে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের পক্ষ থেকে চিঠি হস্তান্তর করা হচ্ছে। বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন দলকে চিঠি দিয়েছে এই সংগঠন

ইশতেহারে পার্বত্য চুক্তিকে অগ্রাধিকার তালিকায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বিভিন্ন দলকে চিঠি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় ইশতেহারে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার তালিকায় রাখার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে চিঠি দিয়েছে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন।

আজ মঙ্গলবার সংগঠনটির পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের যুগ্ম সমন্বয়কারী জাকির হোসেন ও খায়রুল ইসলাম চৌধুরী চিঠিতে সই করেছেন। এতে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নসহ পাঁচ দফা দাবি রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে যুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), গণসংহতি আন্দোলনসহ এবারের নির্বাচনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দল ও জোটের কাছে এরই মধ্যে চিঠিটি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী–অধ্যুষিত বৈচিত্র্যপূর্ণ একটি অঞ্চল। এ অঞ্চলের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী নিজেদের রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত থেকেছে। তারা নিজস্ব শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশের মাধ্যমে বহুত্ববাদী বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় শামিল হওয়া থেকেও বঞ্চিত হয়ে আছে।

আরও বলা হয়েছে, এমন বাস্তবতায় দীর্ঘ দুই যুগের বেশি সশস্ত্র সংঘাতের অবসানে বিভিন্ন সরকারের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকের মাধ্যমে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক পার্বত্য চুক্তি সই হয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি ২৮ বছর পেরিয়ে গেলেও এ চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো বাস্তবায়িত হয়নি। পার্বত্য সমস্যার সমাধানও হয়নি। এ অঞ্চলের অধিবাসীরা ক্রমাগত প্রান্তিকতার দিকে ধাবিত হচ্ছেন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাকে সংহত ও সম্পূর্ণ করার জন্য এক ‘সম্ভাবনাময় সুযোগ তৈরি করেছে’ উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে একটি নতুন সম্ভাবনা ও প্রত্যাশার জায়গা তৈরি হয়েছে। আমরা আশা করছি, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আগামীর রাষ্ট্র গঠন প্রক্রিয়া আরও অধিক গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক হয়ে উঠবে।’