যুদ্ধ ও আধিপত্যবাদবিরোধী ‘নো ওয়ার, নো এম্পায়ার’ কনসার্টে শিল্পীদের পরিবেশনা। রাজু ভাস্কর্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; ২৪ এপ্রিল ২০২৬
যুদ্ধ ও আধিপত্যবাদবিরোধী ‘নো ওয়ার, নো এম্পায়ার’ কনসার্টে শিল্পীদের পরিবেশনা। রাজু ভাস্কর্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; ২৪ এপ্রিল ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘নো ওয়ার, নো এম্পায়ার’ কনসার্টে মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাতিলের দাবি

দেশবিরোধী মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাতিল এবং ফিলিস্তিন, ইরান, লেবানন, ভেনেজুয়েলা, কিউবাসহ দেশে দেশে যুদ্ধ ও গণহত্যা বন্ধের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ‘নো ওয়ার, নো এম্পায়ার’ (যুদ্ধ নয়, সাম্রাজ্য নয়) শীর্ষক যুদ্ধ ও আধিপত্যবাদবিরোধী কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার বিকেল পাঁচটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে এই কনসার্ট শুরু হয়। শুরুতে ‘রানা প্লাজা দিবস’ স্মরণ করে শ্রমিক হত্যার বিচার চাওয়া হয়। এ সময় নিহত শ্রমিকদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

কনসার্টে পরিবেশনায় অংশ নেন স্বনামধন্য সংগীতশিল্পী, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও ব্যান্ড দল। অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের মধ্যে ছিলেন অরূপ রাহী, আহমেদ হাসান সানী, ইলা লালালালা, ওয়ারদা আশরাফ, কফিল আহমেদ ও কুয়াশা মূর্খ। এ ছাড়া পরিবেশনায় ছিল গানের দল কোরাস, বাংলা ফাইভ, দ্য কমরেড, মাভৈ, সমগীত ও সহজিয়া।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে দেশবিরোধী মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাতিল এবং দেশে দেশে যুদ্ধ, গণহত্যা ও আগ্রাসন রুখে দেওয়ার জন্য সবাইকে সংগঠিত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। তাঁরা আরও বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, যুদ্ধ কখনোই শান্তি বয়ে আনে না। যুদ্ধ ধ্বংস করে মানুষের জীবন, সংস্কৃতি ও ভবিষ্যৎ।’

প্রস্তাবিত মার্কিন বাণিজ্যিক চুক্তিকে বাংলাদেশের সংবিধান ও সার্বভৌমত্বের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর বলেও মন্তব্য করেন আয়োজকেরা।

প্রস্তাবিত চুক্তিটিকে একটি ‘গুন্ডামি চুক্তি’ আখ্যা দিয়ে লেখক ও অর্থনীতিবিষয়ক গবেষক মাহা মির্জা বলেন, ‘বাংলাদেশের মতো একটা সার্বভৌম দেশের নাগরিকের জন্য এটি অসম্ভব অসম্মানের। এ রকম একটা গুন্ডামি চুক্তি অবশ্যই বাতিল করতে হবে।’

আয়োজকদের পক্ষ থেকে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রাফিকুজ্জামান ফরিদ বলেন, ‘নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে করা মার্কিন বাণিজ্যচুক্তির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে হুমকির মধ্যে ফেলা হয়েছে। আমরা এই কনসার্টের মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা দিতে চাই—দেশের স্বার্থবিরোধী মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাতিল এবং দেশে দেশে সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ, আগ্রাসন ও গণহত্যা বন্ধ করতে হবে।’