দেশের বায়ুদূষণ নিয়ে একটি গবেষণার তথ্য সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরছেন গবেষকেরা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগে। ১৫ জুলাই ২০২৬
দেশের বায়ুদূষণ নিয়ে একটি গবেষণার তথ্য সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরছেন গবেষকেরা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগে। ১৫ জুলাই ২০২৬

গবেষণা

বায়ুদূষণে বছরে ক্ষতি ২ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা

বাংলাদেশে বায়ুদূষণের কারণে বছরে অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে প্রায় ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। এ ক্ষতির পরিমাণ দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৫ শতাংশের সমান।

একই সঙ্গে বায়ুদূষণের কারণে দেশে প্রতিদিন গড়ে মারা যাচ্ছেন প্রায় ২৪২ জন। সেই হিসাবে প্রতিবছর প্রায় ৮৮ হাজার ২৪০ জন মানুষের অকালমৃত্যু হচ্ছে।

আজ বুধবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ক্লাইমেট চেঞ্জ, এয়ার কোয়ালিটি অ্যান্ড হেলথ রিসার্চ (সি–টু–এএইচআর)’ ইউনিটের গবেষণাটি সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সাময়িকী ‘পলিউশন’-এ প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণাদলের প্রধান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট ও বরিশাল—এই ছয়টি বড় শহরের বায়ুদূষণের স্বাস্থ্যগত ও অর্থনৈতিক প্রভাব বিশ্লেষণ করে এ ফলাফল পাওয়া গেছে।

অধ্যাপক মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, গবেষণাটির ক্ষেত্রে কনসেনট্রেশন রেসপন্স ফাংশন (সিআরএফ) পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। এটি পরিবেশগত স্বাস্থ্য ও রোগতত্ত্ব গবেষণায় বহুল ব্যবহৃত একটি পরিসংখ্যানভিত্তিক সম্পর্ক। এটি দেখায়, কোনো দূষক বা ঝুঁকিপূর্ণ উপাদানের মাত্রা বাড়লে বা কমলে কোনো স্বাস্থ্যগত ফলাফল কতটা পরিবর্তিত হয়।

সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হৃদ্‌রোগে

গবেষণায় দেখা গেছে, বায়ুদূষণজনিত অকালমৃত্যুর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩৭ হাজার ৫১৯ জন হৃদ্‌রোগে মারা গেছেন। এ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের রোগে ৮ হাজার ৩৪৪ জন এবং ফুসফুসের ক্যানসারে ৮১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

শহরভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি অকালমৃত্যু ঘটছে রাজধানী ঢাকায়। বছরে ঢাকায় ৬৮ হাজার ৭০৩ জনের মৃত্যু বায়ুদূষণের সঙ্গে সম্পর্কিত। চট্টগ্রামে এ সংখ্যা ১১ হাজার ২০২। এ ছাড়া রাজশাহীতে ২ হাজার ৮২৭, খুলনায় ২ হাজার ৬২৫, সিলেটে ১ হাজার ৪৮৮ এবং বরিশালে ১ হাজার ৩৯৫ জনের অকালমৃত্যু হচ্ছে।

গবেষকেরা ২০১৩ থেকে ২০২১ সালের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, ছয়টি শহরেই বায়ুদূষণজনিত অকালমৃত্যুর প্রবণতা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। ঢাকায় প্রতিবছর গড়ে প্রায় ৩ হাজার ৪৮৪ জন করে অতিরিক্ত মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে।

‘নীতিনির্ধারকদের জন্য সতর্কবার্তা’

সংবাদ সম্মেলনে মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘বায়ুদূষণকে আমরা প্রায়ই শুধু পরিবেশগত সমস্যা হিসেবে দেখি। কিন্তু আমাদের গবেষণা বলছে, এর ফলে বছরে প্রায় ৮৮ হাজার মানুষের অকালমৃত্যু হচ্ছে। অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ জিডিপির প্রায় ৫ শতাংশ। এটি নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি সতর্কবার্তা।’

গবেষণায় বলা হয়েছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বায়ুর গুণগত মান–সংক্রান্ত নির্দেশিকা কঠোরভাবে অনুসরণ করা গেলে প্রাণহানি ও অর্থনৈতিক ক্ষতির বড় অংশ এড়ানো সম্ভব। এ জন্য পিএম২.৫–এর নির্গমন কমানো, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নীতি বাস্তবায়ন এবং নগরাঞ্চলে সমন্বিত বায়ুমান ব্যবস্থাপনা জোরদারের সুপারিশ করেছেন গবেষকেরা।