জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর ছায়ানট অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘নজরুলসন্ধ্যা’। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর ছায়ানট অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘নজরুলসন্ধ্যা’। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কাজী নজরুল ইসলামের নোবেল পুরস্কার পাওয়া উচিত ছিল: দীনেশ ত্রিবেদী

কবি কাজী নজরুল ইসলামের নোবেল পুরস্কার পাওয়া উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেছেন, ‘উনি (কাজী নজরুল ইসলাম) একজন মহাপুরুষ। এ ধরনের লোক, এ ধরনের মহাপুরুষ পৃথিবীতে খুবই কম এসেছেন। উনি সব সময় আমাদের মনে থাকবেন। সত্যি বলতে গেলে, কাজী নজরুল ইসলামের নোবেল পুরস্কার পাওয়া উচিত ছিল।’

বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ছায়ানট অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘নজরুলসন্ধ্যা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন দীনেশ ত্রিবেদী। ভারতীয় হাইকমিশনের ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র (আইজিসিসি) গান, কবিতা ও নৃত্য পরিবেশনায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘নজরুলসন্ধ্যা’য় বক্তব্য দেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ছায়ানট অডিটোরিয়ামে

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ও প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের সবাইকে নজরুলের আদর্শ ধারণ করতে হবে। একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার জন্য এটা খুব জরুরি। চমৎকার এ আয়োজনের জন্য ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশের মাঝে সাংস্কৃতিক এ বন্ধন আজীবন অক্ষুণ্ন থাকুক।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘নজরুলকে শুধু বিদ্রোহী কবি হিসেবে বর্ণনা করে শেষ করা যাবে না। তিনি একই সঙ্গে প্রেম ও সাম্যের কবি। তাঁর সৃষ্টিতে সাধারণ মানুষের কথা, মানবতা ও সাম্যের বার্তা রয়েছে।’

অনুষ্ঠানে নজরুলসংগীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট

অনুষ্ঠানে নজরুলসংগীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট নজরুলসংগীতশিল্পী ফাতেমা তুজ জোহরা। তাঁর কণ্ঠে শোনা যায় ‘সন্ধ্যা গোধূলি লগনে কে’, ‘মোর প্রথম মনের মুকুল’, ‘আজ যে রাজাধিরাজ’, ‘শিউলিতলায় ভোরবেলায়’, ‘দূর দ্বীপবাসিনী’ ও ‘গোধূলির রঙ ছড়ালে কে গো’। এর পাশাপাশি তিনি একটি শ্যামাসংগীতও পরিবেশন করেন।

আয়োজনে নজরুলের কবিতার অংশবিশেষ আবৃত্তি করেন জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়। কবিতা পাঠের বিরতিতে নৃত্যশিল্পী সামিনা হোসেন প্রেমা ও তাঁর দল ‘ভাবনা’ নজরুলের গানের সঙ্গে মনোজ্ঞ নৃত্য পরিবেশন করে। গান, আবৃত্তি ও নৃত্যের নান্দনিক সমন্বয়ে সাজানো হয় পুরো আয়োজন।

নজরুলের গান, কবিতা ও নৃত্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে জাতীয় কবির সৃষ্টির বহুমাত্রিকতাকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করার মাধ্যমে শেষ হয় এই বিশেষ আয়োজন।

অনুষ্ঠানে নৃত্যশিল্পী সামিনা হোসেন প্রেমা ও তাঁর দল ‘ভাবনা’ নজরুলের গানের সঙ্গে মনোজ্ঞ নৃত্য পরিবেশন করে