হাইকোর্ট ভবন
হাইকোর্ট ভবন

নিউমুরিং টার্মিনাল

চুক্তি প্রক্রিয়ার বৈধতার রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিলের ওপর আদেশ আগামীকাল

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে বন্দর কর্তৃপক্ষের চুক্তিসম্পর্কিত চলমান প্রক্রিয়া নিয়ে রিট খারিজ (রুল ডিসচার্জ) করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সেটি আগামীকাল বৃহস্পতিবার জানা যেতে পারে।

আজ বুধবার শুনানি নিয়ে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ আদেশের এই দিন ঠিক করেন।

এর আগে আপিল বিভাগ ৮ মার্চ লিভ টু আপিল শুনানির জন্য ১১ মার্চ দিন ঠিক করেন। এর ধারাবাহিকতায় লিভ টু আপিলটি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের আজকের কার্যতালিকায় ৭ নম্বর ক্রমিকে ওঠে।

হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ যুব অর্থনীতিবিদ ফোরামের পক্ষে সংগঠনটির সভাপতি মির্জা ওয়ালিদ হোসাইন লিভ টু আপিল করেন। আদালতে লিভ টু আপিলকারীর পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও সৈয়দ মামুন মাহবুব শুনানি করেন। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী আনোয়ার হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক।

পরে আইনজীবী আনোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিলের শুনানি শেষ হয়েছে। লিভ টু আপিলের ওপর আগামীকাল বৃহস্পতিবার আদেশের জন্য দিন ঠিক করেছেন আপিল বিভাগ।

নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনায় ২০১৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের কোম্পানি ডিপিওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের সমঝোতা স্মারক সই হয়। কোম্পানিটির সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চুক্তিসম্পর্কিত চলমান প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে বাংলাদেশ যুব অর্থনীতিবিদ ফোরামের পক্ষে সংগঠনটির সভাপতি গত বছর রিট করেন।

রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত বছরের ৩০ জুলাই হাইকোর্ট রুল দেন। রুলের ওপর শুনানি শেষে গত ৪ ডিসেম্বর বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে বিভক্ত রায় হয়। দ্বৈত বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি রুল অ্যাবসলিউট (যথাযথ) ঘোষণা করেন। দ্বৈত বেঞ্চের অপর বিচারপতি রিট খারিজ করে রায় দেন।

বিভক্ত রায়ের পর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর রিটটি নিষ্পত্তির জন্য বিচারপতি জাফর আহমেদের একক হাইকোর্ট বেঞ্চে পাঠান। গত ২৯ জানুয়ারি বিচারপতি জাফর আহমেদের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ রিট খারিজ করে রায় দেন। এর মধ্য দিয়ে হাইকোর্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতে রিট খারিজের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।

হাইকোর্টের একক বেঞ্চের রায় ঘোষণার পর গত ২৯ জানুয়ারি আপিল বিভাগে আবেদন করে রিট আবেদনকারীপক্ষ। এতে চুক্তিসম্পর্কিত প্রক্রিয়ায় স্থিতাবস্থা চাওয়া হয়। শুনানি নিয়ে সেদিন চেম্বার আদালত ‘নো অর্ডার’ দেন। পাশাপাশি নিয়মিত লিভ টু আপিল করতে বলেন। হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর রিট আবেদনকারীপক্ষ লিভ টু আপিল করে।