বৈদেশিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও প্রবাসীকল্যাণে গঠিত কমিটির প্রথম সভায় প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। আজ বুধবার ঢাকায় প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে
বৈদেশিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও প্রবাসীকল্যাণে গঠিত কমিটির প্রথম সভায় প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। আজ বুধবার ঢাকায় প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে

বিদেশে শ্রমবাজার সম্প্রসারণের হালনাগাদ প্রতি সপ্তাহে উপস্থাপন করতে হবে: প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী

এখন থেকে প্রতি সপ্তাহে বিদেশের শ্রমবাজার সম্প্রসারণের হালনাগাদ প্রতিবেদন উপস্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেছেন, এ ক্ষেত্রে কোনো প্রকার শৈথিল্য দেখানো যাবে না।

বুধবার ঢাকায় প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বৈদেশিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও প্রবাসীকল্যাণে গঠিত কমিটির প্রথম সভায় সভাপতির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথাগুলো বলেন। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বিদেশি কর্মীর চাহিদা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, শতভাগ শ্রম অধিকার ও উচ্চ বেতনের নিশ্চয়তা থাকায় জাপান বাংলাদেশের জন্য একটি সম্ভাবনাময় শ্রমবাজার। জাপানে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন গ্রহণ চলমান রয়েছে।

সভায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, জাপান প্রধানত চারটি ভিসা ক্যাটাগরিতে বিদেশি কর্মী গ্রহণ করে। এমপ্লয়মেন্ট ফর স্কিল ডেভলপমেন্ট (ইএসডি), স্পেসিফাইয়েড স্কিলড ওয়ার্কার (এসএসডব্লিউ), ইঞ্জিনিয়ার্স/স্পেশালিস্ট ইন হিউম্যানিটিজ/ ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিসেস এবং স্টুডেন্ট। জাপান টাইমসের এক প্রতিবেদন অনুসারে, এই চারটি ক্যাটাগরির মধ্যে শুধু ইএসডি ও এসএসডব্লিউ ক্যাটাগরিতে ২০২৯ সালের মধ্যে জাপান ১২ লাখের বেশি বিদেশি কর্মী নিয়োগ করবে।

সভায় আরও জানানো হয়, বাংলাদেশের সর্বশেষ জনশুমারি অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণের পরও প্রায় আড়াই কোটি কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী অতিরিক্ত রয়েছে। তাঁদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে উল্লেখযোগ্য অংশ জাপানে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতে পারেন। এতে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে। যথাযথ প্রস্তুতি ও জাপানি কোম্পানির কাছ থেকে চাহিদা নিশ্চিত করা গেলে ২০৩০ সালের মধ্যে জাপানে নতুন করে লক্ষাধিক কর্মী পাঠানো সম্ভব হতে পারে।

সভায় পর্যায়ক্রমে সব কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (টিটিসি) জাপানি ভাষাশিক্ষা কোর্স চালুর প্রস্তাবও উঠে আসে। স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক দেশীয় জাপানি ভাষা প্রশিক্ষক নিয়োগের পাশাপাশি ‘ভার্চ্যুয়াল টিচিং’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে জাপানি প্রশিক্ষক যুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

সভায় প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়া, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান নাজনীন কাওসার চৌধুরী এবং জাপানের ঐতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুল ফ্যাকাল্টি অধ্যাপক শাকিরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।