সাংবাদিকদের ওপর হামলা

জকসু থেকে শিবিরের দুই নেতাকে অব্যাহতির দাবি ছাত্রদল প্যানেলের চার প্রতিনিধির

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় ঘটনায় জকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও শিক্ষা সম্পাদকের বিরুদ্ধে সংগঠনকে ব্যবহার করে ‘মিথ্যা বিবৃতি’ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের চার প্রতিনিধি। তাঁরা ওই দুই নেতার পদ থেকে অব্যাহতি দাবি করেছেন।

শনিবার জকসুর কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই দাবি জানানো হয়। এতে স্বাক্ষর করেছেন জকসুর ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল থেকে নির্বাচিত পাঠাগার ও সেমিনার সম্পাদক মো. রিয়াসাল রাকিব, পরিবহন সম্পাদক মো. মাহিদ হোসেন, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মো. তাকরিম মিয়া এবং নির্বাহী সদস্য মো. সাদমান সাম্য।

অভিযুক্ত ওই দুই নেতা হলেন—জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ও জকসুর জিএস আব্দুল আলিম আরিফ এবং শাখা শিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জকসুর শিক্ষা সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল।

বিবৃতিতে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের ওই চার প্রতিনিধি বলেন, ‘সাংবাদিকদের ওপর হামলার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনাকে ন্যায্যতা দিতে শিবিরের এই দুই নেতা জকসুর ব্যানার ব্যবহার করে মিথ্যা ও বানোয়াট বিবৃতি দিয়েছেন এবং সংবাদ সম্মেলন করেছেন, যা সম্পর্কে জকসুর অন্য প্রতিনিধিরা অবগত নন। জকসুকে প্রশ্নবিদ্ধ করার এই অপচেষ্টার মাধ্যমে তাঁরা পদে থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন।’

বিবৃতিতে তাঁরা অনতিবিলম্বে অভিযুক্তদের পদ থেকে অব্যাহতি দিতে জকসুর সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের প্রতি আহ্বান জানান।

জকসুর এই চার নেতা আরও বলেন, ‘জকসু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষার্থীর প্রতিনিধিত্ব করে, কোনো রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তিক ছাত্রসংগঠনের স্বার্থে এটি কাজ করে না। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে সংঘটিত এ ধরনের ঘৃণ্য কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১২ জন সাংবাদিক আহত হন।

আহত সাংবাদিকদের অভিযোগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির নির্বাচনের ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তাঁরা ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করার বিষয়টি জানতে সমিতির কার্যালয়ে যান। তখন ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) প্রতিনিধিরা সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে বসে সাংবাদিক সমিতির নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম বিক্রি করছিলেন। চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত না করা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ছাত্রশিবিরের জকসু নেতারা ও তাঁদের মতাদর্শী সাংবাদিকেরা তাঁদের ওপর হামলা চালান।

এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরদিন শুক্রবার সন্ধ্যায় জকসুর ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন করেন জকসুর পদে থাকা ছাত্রশিবিরের দুই নেতা। তাঁরা দাবি করেন, তাঁরা হামলা করেননি, বরং হামলা থেকে শিক্ষার্থীদের নিবৃত্ত করতে গিয়ে নিজেরাই আক্রান্ত হয়েছেন। একই দিন জকসুর সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মো. মাসুদ রানা স্বাক্ষরিত অপর এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়, জিএস ও শিক্ষা সম্পাদককে জড়িয়ে প্রকাশিত সংবাদ ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’।

তবে এজিএসের ওই বিবৃতির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে শনিবার পাল্টাবিবৃতি দিলেন জকসুর ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের চার নেতা। তাঁরা বলছেন, হামলাকারীরা নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে জকসুর নাম ব্যবহার করছে, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য অপমানজনক।