
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তবিভাগ ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে হামলায় জড়িতদের স্থায়ী বহিষ্কারসহ পাঁচ দফা দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে বিভাগের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো ভিডিও ফুটেজ দেখে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারীদের স্থায়ী বহিষ্কার করা, রিফাতুল ইসলামের ওপর হত্যাচেষ্টা ও শিক্ষক ছালেহ উদ্দিনের ওপর হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা করা, খেলার আগে অনলাইনে উত্তেজনা ছড়ানো গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ওঠা ‘শ্লীলতাহানির’ অভিযোগ তদন্ত করা এবং মিথ্যা প্রমাণিত হলে অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার ব্যয়ভার বিশ্ববিদ্যালয়কে বহন করা।
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সব ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। মানববন্ধন শেষে তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন।
মানববন্ধনে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইবনে সাবিত তারেক বলেন, ‘সাংবাদিকতা বিভাগের যেসব শিক্ষার্থী আমাদের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ওপর হামলা করেছে, তাদেরকে চিহ্নিত করে তাদের তথ্য আমরা দিয়েছি, তাদেরকে অনতিবিলম্বে বহিষ্কার করতে হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্দেশে ইবনে সাবিত তারেক বলেন, ‘যদি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে আমরা আরও কঠিন কর্মসূচি দেব। আমাদের শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ, পরবর্তী সময়ে যদি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে, তবে তার দায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নিতে হবে।’
২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাসুমা আক্তার বলেন, ‘আজকে আমরা অত্যন্ত লজ্জাজনক ও ন্যক্কারজনক ঘটনার প্রেক্ষিতে মানববন্ধন করছি। কে মার খেয়েছে? শিক্ষকেরা মার খেয়েছে, এটা বলতে গিয়ে আমার কণ্ঠস্বর কাঁপছে। সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষকেরা কি সেই সব শিক্ষার্থীদের কাছে নিরাপদ?’
মাসুমা আরও বলেন, ‘শিক্ষকেরা আমাদের অভিভাবক, যেখানে তাঁরা নিরাপদ নন, আমরা আমাদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। যে অপরাধী তার পরিচয় দলমতের ঊর্ধ্বে সে অপরাধী। আমরা কোনো বিভাগ বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়াইনি। আমরা চাই এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীদের অনতিবিলম্বে শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।’
একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শাহ আহমেদ রেজা বলেন, ‘আমাদের এই মানববন্ধন ও বিচারের দাবি কোনো নির্দিষ্ট বিভাগের বিরুদ্ধে নয়। আমাদের স্পষ্ট দাবি হলো, অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা।’
শাহ আহমেদ রেজা আরও বলেন, ‘শিক্ষকদের গায়ে হাত তোলা কখনোই বরদাশতযোগ্য নয়। তারা দাবি করছে তাদের একজন শিক্ষককে অপমান করা হয়েছে। যদি এর সুষ্ঠু ও প্রমাণিত তথ্য উপস্থাপন করতে পারে, তবে আমরা নিজেরাই আমাদের বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নেব। ন্যায়বিচারের প্রশ্নে আমাদের অবস্থান নীতিনিষ্ঠ ও আপসহীন।’