জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের মানববন্ধনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেন শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। ৯ জুন, ২০২৬
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের মানববন্ধনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেন শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। ৯ জুন, ২০২৬

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের প্রতিবাদ মিছিল

নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের মানববন্ধনের প্রতিবাদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে শাখা ছাত্রদল। ছাত্রদল নেতাদের দাবি, নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যানারে কর্মসূচি পালন করে শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ বিঘ্নিত করার চেষ্টা চলছে।

মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের অংশগ্রহণে এই কর্মসূচি পালিত হয়। মিছিলটি রফিক ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়ে প্রশাসনিক ভবন এবং বিজ্ঞান ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ প্রদক্ষিণ করে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘একাত্তরের গণহত্যা ভাস্কর্য’ চত্বরে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে এটি শেষ হয়।

সমাবেশে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদি হাসান বলেন, নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের ব্যানারে ক্যাম্পাসে কর্মসূচি পালনের অপচেষ্টা সাধারণ শিক্ষার্থীরা মেনে নেবে না। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে সন্ত্রাস ও দখলদারত্বের রাজনীতি থেকে মুক্ত রাখতে ছাত্রদল সর্বদা সোচ্চার থাকবে। যেকোনো অস্থিতিশীলতা শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রতিহত করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামছুল আরেফিন বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে নিষিদ্ধ সংগঠনের পুনর্বাসনের যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্ত্রাস ও অপসংস্কৃতির রাজনীতি ফিরে আসার কোনো সুযোগ নেই।

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের জাফর আহমেদ, সুমন সরদার, মুস্তাফিজুর রহমান, শাহরিয়ার আহমেদ, কে এম মাহমুদ হাসান, রবিউল আউয়ালসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা। এ ছাড়া নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হল শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য নেতা কর্মসূচিতে অংশ নেন।

এর আগে মঙ্গলবার সকালে বাহাদুর শাহ পার্কের বিপরীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ফটক–সংলগ্ন গেটে মানববন্ধন করেন নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশিক-ই-আতাহার মেসবাহ এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

কঠোর ব্যবস্থার আশ্বাস প্রক্টরের

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর নাসির উদ্দিন বলেন, ‘বিষয়টি আমি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানি না। তবে এর আগেও এমন অভিযোগ উঠেছে। প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে।’

নাসির উদ্দিন আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।