বছরটা আগাগোড়ায় গ্রামে কেটেছে, গ্রামের আলো-হাওয়ায় গান বেঁধেছি। এর মধ্যে ঢাকায় গিয়ে শো করেছি, শো শেষ করেই গ্রামের পথ ধরেছি। বছর দুয়েক ঢাকায় ছিলাম, তবে খাপ খাওয়াতে পারিনি। ওই রকম পরিবেশে বড় হইনি। পড়াশোনাও করেছি গ্রামের মতো একটা পরিবেশ। প্রকৃতির সঙ্গে মিশে থাকাটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কাজের সুবাদে ঢাকায় থাকাকালে মনে হয়েছিল, আমি কেন জানি ‘লক’ হয়ে যাচ্ছি। বছরখানেক আগে গ্রামে ফিরেছি। গ্রামের হাওয়া খাই, ঘুরিফিরি। প্রকৃতির মাঝে মিশে থাকার চেষ্টা করি। তবে কাজ (শো) থাকলে ঢাকায় যাই। কয়েক দিন আগেও উত্তরায় একটি শো করলাম। বছরজুড়ে বেশ কয়েকটি শো করেছি। কয়েকটি মৌলিক গানও প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে একটি সিনেমার গানও আছে। নয়া মানুষ সিনেমায় মাশা (ইসলাম) আপুর সঙ্গে ‘চাঁন্দের বাড়ি’ গানটি গেয়েছি, এর সুর করেছেন ইমন দা (চৌধুরী)। স্টেজ শো ও মৌলিক গান—সব মিলিয়ে বছরটা কেটেছে। সত্যি বলতে, গানে আমার যাত্রাটা খুব বেশি দিনের নয়। সংগীতের মহাসমুদ্রে সবে ঝাঁপ দিলাম। যতটুকু আশা করেছি, সেই অনুপাতে বছরটা ভালোই ছিল। কয়েকটি হাজং গান করেছি; আমিই লিখেছি, সুর করেছি। এর মধ্যে একটি গান দীপাবলিকে কেন্দ্র করে। পাশাপাশি কয়েকটি রোমান্টিক বাংলা গানও করেছি। এসব গানের সংগীতায়োজন করেছেন অদিত (রহমান) দা, শুভেন্দু (দাস) দা। এর বাইরে কয়েকটি রোমান্টিক বাংলা গান আছে। এই বছর একে একে গান প্রকাশ করব।
আমি বিশ্বাস করি, একজন শিল্পীর মৌলিক গান থাকাটা জরুরি। আমি একটা অ্যালবাম প্রকাশ করতে চাই, সেটা এই বছরই প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। অ্যালবামে বাংলা গান, হাজং গান থাকবে। লোকগান, আধুনিকের ছোঁয়াও থাকবে।
এর বাইরে আমার একটা ব্যান্ড করার চিন্তাভাবনা ছিল। তবে সেটা হয়নি। আমি এখনো চেষ্টা করছি, আমার ভাবনার সঙ্গে মেলে, এমন মানুষ পেলে ব্যান্ডটা করব। আমি যাঁদের সঙ্গে গান করছি, ওনারা তো একেকজন মহারথী। তাঁদের সঙ্গে থেকে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করছি। সামনে সুযোগ পেলে একটা সময় ব্যান্ড দাঁড় করানোর পরিকল্পনা আছে। সংগীতের বাইরে রাজনৈতিক বিষয়ে তেমন কিছু বলতে চাই না। তবে একজন নাগরিক হিসেবে বলতে পারি, যখন কোনো রাজনৈতিক পালাবদল ঘটে কিংবা অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হয়; তখন শুধু সংগীতের ক্ষেত্রেই নয়, প্রতিটি মানুষের মনে অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়। আমরা বিশ্বাস করি, শিল্পচর্চা খারাপ দিক বয়ে আনতে পারে না। এই জায়গা যেন কোনোভাবেই নষ্ট না হয়। সমাজে কোনো বাজে প্রভাব পড়ে না, সে রকম শিল্পের সঙ্গে যেন রাষ্ট্র থাকে—সেটুকুই আশা।
অনিমেষ রায়: সংগীতশিল্পী