‘অপারেশন সার্চলাইট ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সূচনা: ইতিহাসের প্রামাণ্য আখ্যানের সন্ধানে’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান বক্তা অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খানের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দিচ্ছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক রইছ উদ্দীন। কেন্দ্রীয় মিলনায়তন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। ২০ এপ্রিল ২০২৬
‘অপারেশন সার্চলাইট ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সূচনা: ইতিহাসের প্রামাণ্য আখ্যানের সন্ধানে’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান বক্তা অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খানের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দিচ্ছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক রইছ উদ্দীন। কেন্দ্রীয় মিলনায়তন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। ২০ এপ্রিল ২০২৬

মুক্তিযুদ্ধের সূচনাপর্ব বুঝতে রাষ্ট্রীয় বয়ানের বাইরে বিশ্লেষণের তাগিদ সলিমুল্লাহ খানের

সঠিক ইতিহাসচর্চা এবং রাষ্ট্রীয় বয়ানের বাইরে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সূচনাপর্বের বহুমাত্রিক বিশ্লেষণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের ‘অপারেশন সার্চলাইট’ ছিল পাকিস্তানি সামরিক জান্তার সুপরিকল্পিত দমন-পীড়ন, যা বাঙালির সশস্ত্র প্রতিরোধ ও মুক্তিযুদ্ধকে ত্বরান্বিত করেছিল।

সোমবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ‘অপারেশন সার্চলাইট ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সূচনা: ইতিহাসের প্রামাণ্য আখ্যানের সন্ধানে’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বুঝতে রাজনৈতিক-ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান ও সমকালীন দলিল ব্যবহারের ওপর জোর দেন সলিমুল্লাহ খান। তিনি উল্লেখ করেন, এই হত্যাযজ্ঞ আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে গণহত্যার শামিল হলেও এর পূর্ণাঙ্গ দলিলীকরণ এখনো জরুরি। সত্য অনুসন্ধানে তিনি নতুন প্রশ্ন তোলা ও তথ্যনির্ভর গবেষণার আহ্বান জানান।

সেমিনারে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক রইছ উদ্দীন বলেন, স্বাধীনতার ৫৬ বছর পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ও নির্ভুল ইতিহাস এখনো রচিত হয়নি, যা জাতির জন্য এক বড় কলঙ্ক। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এখনো মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সঠিক সংখ্যা কিংবা শহীদ বুদ্ধিজীবীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সঠিক ইতিহাস পৌঁছে দিতে তিনি ইতিহাস বিকৃতির প্রবণতা থেকে মুক্তির আহ্বান জানান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা পরিচালক অধ্যাপক ইমরানুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষক মো. আনিসুর রহমান। সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা অংশগ্রহণ করেন।