
বাংলাদেশে কারাবন্দী চার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের মুক্তি এবং তাঁদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছে সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা আন্তর্জাতিক সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানকে চিঠি দিয়েছে সংগঠনটি। চিঠিতে কারাবন্দী সাংবাদিকদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়েছে।
গত রোববার ই–মেইলে পাঠানো এই চিঠিতে যে চার সাংবাদিকের মুক্তি দাবি করা হয়েছে, তাঁরা হলেন ফারজানা রুপা, শাকিল আহমেদ, মোজাম্মেল হক বাবু ও শ্যামল দত্ত। জুলাই অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে তাঁরা গ্রেপ্তার হন, এখনো কারাগারে রয়েছেন।
সিপিজের এশিয়া-প্যাসিফিক প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর কুনাল মজুমদার স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, এই চার সাংবাদিক খুনের মামলায় গ্রেপ্তার করে ১৮ মাসের বেশি সময় ধরে কারাগারে রাখা হয়েছে। তবে সিপিজের নথিপত্র, স্বজনদের বক্তব্য এবং আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের পর্যালোচনা বলছে, তাঁদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি এবং কোনো অভিযোগপত্রও (চার্জশিট) দেওয়া হয়নি। এসব মামলার ধরন দেখে মনে হয়, মূলত সাংবাদিকতা এবং রাজনৈতিক অবস্থানের কারণেই তাঁদের এসব মামলায় জড়ানো হয়েছে।
চিঠিতে কারাবন্দী সাংবাদিকদের মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সাংবাদিক ফারজানা রুপাকে ২০২৪ সালের নভেম্বরে দুই সপ্তাহ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের সেলে (কনডেম সেল) রাখা হয়েছিল। শ্যামল দত্ত গ্রেপ্তারের কয়েক দিনের মাথায় স্ট্রোক করেন। তিনি আগে থেকেই হৃদ্রোগ ও গুরুতর ‘স্লিপ অ্যাপনিয়া’য় (ঘুমের মধ্যে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা) ভুগছেন। অন্যদিকে মোজাম্মেল হক বাবু প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ২০২৩ সালের শেষের দিকে বড় ধরনের অস্ত্রোপচার করিয়েছেন। তবে তিনি কারাগারে প্রয়োজনীয় ফলোআপ চিকিৎসা পাচ্ছেন না।
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে করা রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এসব অঙ্গীকার সিপিজেসহ সংশ্লিষ্ট অনেক পর্যবেক্ষক সংগঠনকে আশাবাদী করেছে। সেই প্রেক্ষাপটেই সাংবাদিকদের কারাবন্দিত্বের বিষয়টি আইনমন্ত্রীর নজরে এনেছে সংগঠনটি।
সিপিজে আশা প্রকাশ করেছে, বর্তমান সরকারের আইন মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সমন্বয় করে অবিলম্বে এই সাংবাদিকদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করবে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করবে।