আলোচনায় বক্তারা

জনবল, অবকাঠামো ও অর্থসংকটে ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন

জাতীয় ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অতিথিরা
ছবি: সংগৃহীত

ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন (পিএমআর) চিকিৎসাসেবা ও শিক্ষার এই বিশেষায়িত শাখাটি জনবল, অবকাঠামো ও অর্থসংকটে ভুগছে। এ বিষয়ে চিকিৎসক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতাও কম। সমস্যা ঘোচাতে নীতিনির্ধারক ও চিকিৎসাবিশেষজ্ঞদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

জাতীয় ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা এ কথা বলেন। বাংলাদেশ সোসাইটি অব ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘সমন্বিত পুনর্বাসনে চাই সম্মিলিত প্রচেষ্টা’।

অনুষ্ঠানের সভাপতি ও আয়োজক সংগঠনের নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক মো. তসলিম উদ্দিন বলেন, যাঁরা প্রতিবন্ধিতার ঝুঁকিতে থাকেন, তাঁদের সক্ষম ও সক্রিয় জীবন ফিরিয়ে দেওয়াই পিএমআরের কাজ। চিকিৎসাশিক্ষা ও চিকিৎসাসেবার এই বিশেষায়িত শাখাটিকে অবনমিত করার চেষ্টা অনেকে করছেন। সবাই মিলে সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এর স্বাতন্ত্র্য ও উৎকর্ষ বজায় রাখতে হবে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের অনেক শাখাই রোগ সারায়। কিন্তু এই শাখা রোগীকে আবার সক্ষম করে তোলে। রোগীকে নিজের জীবনে, কাজে ও সমাজে ফিরিয়ে দেয়। সেটি শুধু শারীরিক অগ্রগতি নয়, এটি মানুষের অস্তিত্ব পুনরুদ্ধার। এটাই চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই শাখার মানবিক শক্তি।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের অধ্যাপক এম এম জামান। তিনি বলেন, পিএমআরের জন্য দেশে অবকাঠামোর ঘাটতি আছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই শাখা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণা কম, এমনকি চিকিৎসকদের মধ্যেও ধোঁয়াশা আছে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য জনবলের ঘাটতি আছে। তিনি বলেন, পুনর্বাসন চিকিৎসার জন্য অর্থায়ন বাড়াতে হবে, চিকিৎসক ও চিকিৎসকদের সহযোগী জনবল বাড়াতে হবে এবং এ বিষয়ে গবেষণা কার্যক্রম বিস্তৃত করতে হবে।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, দেশে ক্রীড়াবিজ্ঞান ও ক্রীড়াচিকিৎসার চর্চা কম। এটি বাড়াতে হবে। চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা হাজার হাজার রান করেন, সেই হিসাব কেউ রাখে না। আপনাদের করা স্কোর দেখা যায় না।’

চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই বিশেষ শাখার গুরুত্ব তুলে ধরে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, যিনি কথা বলতে পারেন না, তিনি জানেন কথা বলার প্রয়োজন কী। যিনি হাঁটতে অক্ষম, তিনি হাঁটার মর্ম অনুভব করেন। কথা বলাতে, হাঁটাতে সক্ষম করে তোলে পিএমআর।

জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (পঙ্গু হাসপাতাল) অধ্যাপক মনিরুল ইসলাম বলেন, চিকিৎসকদের জ্ঞানের প্রতি, রোগীর প্রতি আগ্রহ থাকা জরুরি। জ্ঞান ও রোগী হচ্ছে চিকিৎসকদের পাথেয়।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ সোসাইটি অব ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশনের মহাসচিব এ কে আজাদ।