গুরুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনই শাস্ত্রীয় শিল্পের ঐতিহ্য

মিউজিক অ্যালায়েন্স ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ফাউন্ডেশন আয়োজিত আন্তজার্তিক শাস্ত্রীয় সংগীত সন্ধ্যা অনুষ্ঠানে  সংগীত পরিবেশন করছেন শিল্পীরা। শুক্রবার রাজধানীর সেগুনবাগিচার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে
ছবি: আশরাফুল আলম

সুরের ভেতর দিয়ে মানুষের আত্মশুদ্ধি হয়। সুর ঐশ্বরিক বলেই সবাইকে স্পর্শ করে। ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের ধারা হচ্ছে গুরু-শিষ্যের পরম্পরা। গুরু বা শিক্ষকের প্রতি সম্মান এ অঞ্চলের শিল্পের ঐতিহ্য। আন্তর্জাতিক শাস্ত্রীয় সংগীত সন্ধ্যার আয়োজনে শিল্পী ও অতিথিদের বক্তব্যে উঠে এল এসব কথা। মিউজিক অ্যালায়েন্স ওয়ার্ল্ড অ্যাওয়ার্ড- মঁ ফাউন্ডেশনের এই আয়োজনের প্রতিপাদ্য ‘পাসিং অন দ্য ট্রেডিশন’।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মিলনায়তনে  শুরু হয় অনুষ্ঠান। প্রথমবারের মতো প্রদান করা হয়  ‘সংগীত পরম্পরা সম্মান’ অ্যাওয়ার্ড। বাংলাদেশের শাস্ত্রীয় সংগীত শিল্পী পণ্ডিত অসিত দে পেলেন সংগীত পরম্পরা সম্মাননা। উপমহাদেশের প্রখ্যাত লালনসংগীতশিল্পী ফরিদা পারভিন ক্রেস্ট তুলে দেন শিল্পী অসিতদের হাতে। সম্মাননা গ্রহণের পর অসিত দে বলেন, শাস্ত্রীয় সংগীতে অনেক বয়স হয়ে যাওয়ার আগে স্বীকৃতির কথা ভাবাই যায় না। মঁ ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগ দৃষ্টান্ত তৈরি করল। শিল্পী ফরিদা পারভিনের কথায় উঠে আসে সুরের মধ্য দিয়ে আত্মশুদ্ধির কথা।  

পুরস্কার প্রদানের আগে মঞ্চে এক পর্বে হয়ে যায় শাস্ত্রীয় সংগীতের পরিবেশনা। শিল্পী মৃত্যুঞ্জয় দাসের বাঁশির সুরে শুরু হয় পরিবেশনা পর্ব। ‘আলাপ জোড়’ আর ‘ঝাঁপ তাল’–এর সুর তোলেন তিনি বাঁশিতে। তখন মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনছেন শ্রোতারা। তবলায় সঙ্গত করেছেন শিল্পী জাকির হোসেন। দ্বিতীয় পরিবেশনা ছিল শিল্পী রিনাত ফৌজিয়ার সেঁতার বাদন। উপমহাদেশের প্রখ্যাত উচ্চাঙ্গ সংগীত শিল্পী, সেতারবাদক ওস্তাদ আয়েত আলী খাঁর নাতনি  শিল্পী রিনাত ফৌজিয়া শুরু করেন ‘রাগ মোহন কোষ’ দিয়ে। তাঁকে তানপুরায় সঙ্গত করেছেন আফ্রিদা খান আর তবলায় সঞ্জয় মজুমদার।

পুরস্কার প্রদানের পর শুরু হয় দ্বিতীয় পর্বের পরিবেশনা। একে একে মঞ্চে এসেছেন বাংলাদেশ এবং ভারতের উচ্চাঙ্গ সংগীত ঘরানার শিল্পীরা। সরোদ বাজাতে ভারত থেকে এসেছেন শিল্পী সিরাজ আলী খান। সেতার শোনাতে যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো থেকে এসেছেন অর্জুন ভার্মা। তবলা, পাখোয়াজ, হারমোনিয়াম, তানপুরা পরিবেশনায় বাংলাদেশের পাশাপাশি অংশ নিয়েছেন ভারতের অনেক গুণী শিল্পী।

আয়োজনের শুরুতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক অধ্যাপক হাকিম আরিফ বলেন, গানের সুর হচ্ছে পৃথিবীর সব মানুষের ভাষা। আমাদের দেশের তরুণেরা শাস্ত্রীয় সংগীত পছন্দ করে না সেই ধারণা ভুল প্রমাণ হলো এ আয়োজনে। মঁ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মেহজাবিন রহমান জানান, তরুণদের শাস্ত্রীয় সংগীতে আগ্রহী করা আয়োজনের উদ্দেশ্য। শিল্পে পরম্পরা বলতে যা বোঝায় সে বিষয়টিকেই গুরুত্ব দিতেই এ উদ্যোগ। আয়োজনের টাইটেল স্পনসর সিটি ব্যাংক এবং আমেরিকান এক্সপ্রেস। বিকেল থেকে শুরু হয়ে পরিবেশনা চলে প্রায় রাত ১০টা পর্যন্ত।  ‘পাসিং অন দ্য ট্রেডিশন’ শুরু হয় ১২ জন তরুণ–তরুণীর কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে।