আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

বিডিআরের নজরুলের ময়নাতদন্তে প্রভাব খাটান জিয়াউল: তদন্ত কর্মকর্তার জবানবন্দি

বিডিআর হাসপাতালের (বর্তমানে বর্ডার গার্ড হাসপাতাল) সাবেক মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট নজরুল ইসলামের সুরতহাল প্রতিবেদন ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন সঠিকভাবে প্রস্তুত করা হয়নি বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন সঠিকভাবে প্রস্তুত না করার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন র‍্যাবের (বর্তমানে এসআরবি) সাবেক কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান।

শতাধিক ব্যক্তিকে গুম ও হত্যার অভিযোগে মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বৃহস্পতিবার জবানবন্দিতে এ কথাগুলো বলেন।

জবানবন্দিতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, বলপূর্বক গুমের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকের শেষ পরিণতি কী হয়েছিল, তা তাঁদের অজানাই রয়ে গেছে। বলপূর্বক গুমের শিকার ব্যক্তিদের কাউকে কাউকে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করা হতো। আবার কাউকে কাউকে বনদস্যু নির্মূলের অভিযানের নামে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে সাজানো নাটক মঞ্চস্থ করা হতো। আবার কাউকে কাউকে দীর্ঘদিন আটক রাখার পর মিথ্যা মামলা দিয়ে বিভিন্ন আদালতে চালান দেওয়া হতো। কাউকে গুলি করে হত্যা করা হতো। কাউকে গুলি করে পেট ফেড়ে নদীতে তলিয়ে দেওয়া হতো। যেসব ক্ষেত্রে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি জনগণের সামনে চলে আসত, সেসব ক্ষেত্রে লোকদেখানো প্রশাসনিক নির্বাহী তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডটির বৈধতা দেওয়া হতো।

রফিকুল ইসলাম বলেন, শুধু তা–ই নয়, নিয়ন্ত্রিত নির্বাহী তদন্ত প্রতিবেদন প্রদানের স্বার্থে সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করার উদ্দেশ্যে প্রকৃত মৃত্যুর কারণ গোপন রেখে ভুল ও অসত্য প্রতিবেদন দিতে বাধ্য করা হতো, যা তাঁর তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। যেমন এই মামলার ভুক্তভোগী বিডিআর হাসপাতালের সাবেক মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট নজরুল ইসলামের সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন সঠিকভাবে প্রস্তুত করা হয়নি, যার সঙ্গে জিয়াউল আহসান সরাসরি জড়িত ছিলেন।

২০০৯ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত র‍্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক এবং র‍্যাবের এডিজি (অপস) হিসেবে কর্মরত থাকার সময় বলপূর্বক অসংখ্য গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে জিয়াউল আহসান সরাসরি অংশগ্রহণ করেন বলেও জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম।