খাবার টেবিলে বসা নিয়ে তর্কাতর্কির জেরে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি আবাসিক হলে তল্লাশি চালিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টায় এ তল্লাশি শুরু হয়। চলে দিবাগত রাত একটা পর্যন্ত।
তল্লাশি চালানো হল দুটি হলো শাহজালাল ও শাহ আমানত। তল্লাশি শেষে সহকারী প্রক্টর হাছান মোহাম্মদ প্রথম আলোকে বলেন, হল প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি, গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশ সদস্যদের নিয়ে আবাসিক হলে তল্লাশি চালানো হয়েছে। সেখান থেকে ১০ থেকে ১২টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কাউকে আটক বা শনাক্ত করা যায়নি।
এর আগে খাবারের দোকানে টেবিলে বসা নিয়ে ছাত্রলীগের দুই উপপক্ষের মধ্যে দুই দফায় সংঘর্ষ হয়। বুধবার রাত ১১টা ও বৃহস্পতিবার বেলা ১টায় সংঘর্ষ হয়। এতে দুই পক্ষের ১৫ নেতা-কর্মী আহত হন। এ ছাড়া সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে আহত হন বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।
সংঘর্ষে জড়ানো উপপক্ষ দুটি হলো চুজ ফ্রেন্ডস উইথ কেয়ার (সিএফসি) ও সিক্সটি নাইন। সিএফসির নেতা-কর্মীরা নিজেদের শিক্ষা উপমন্ত্রী মহীবুল হাসান চৌধুরীর এবং সিক্সটি নাইনের নেতা-কর্মীরা সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী হিসেবে পরিচয় দেন।
বুধবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে শাহ আমানত হল সংলগ্ন একটি খাবারের দোকান থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। সিক্সটি নাইন উপপক্ষের নেতা ও শাখা ছাত্রলীগের উপপ্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক মাহফুজ আল মামুন তখন ওই হোটেলে বসে খাবার খাচ্ছিলেন। একই সময়ে সিএফসি উপপক্ষের তৃতীয় বর্ষের (২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ) আট থেকে ১০ জন কর্মী সেখানে খাবার খেতে যান। এ সময় সিএফসির কর্মীরা মাহফুজকে সরে গিয়ে জায়গা দিতে বলেন। এ নিয়ে ওই কর্মীদের সঙ্গে মাহফুজের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
হাতাহাতির ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর সিক্সটি নাইন উপপক্ষের নেতা-কর্মীরা শাহজালাল হল থেকে দেশীয় নানা অস্ত্র নিয়ে বের হয়ে হলের ফটকের সামনে জড়ো হন। আর সিএফসির নেতা-কর্মীরা শাহ আমানত হলে সামনে একই ধরনের অস্ত্র নিয়ে জড়ো হন। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ হয়। এতে দুই পক্ষের অন্তত সাত থেকে জন আহত হন।
এ ঘটনার রেশ ধরে বৃহস্পতিবার দুপুরে সিএফসির নেতা ও শাখা ছাত্রলীগের উপদপ্তর সম্পাদক রমজান হোসেনকে কুপিয়ে আহত করেন সিক্সটি নাইনের নেতা-কর্মীরা। এরপর আবার দুই হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বেলা ১টা থেকে উভয় পক্ষ মুখোমুখি হয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। টানা সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে চলা এ সংঘর্ষে দুই পক্ষের আরও সাতজন নেতা-কর্মী আহত হন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।