
রাজধানীর জিয়া উদ্যানে আজ বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ পাচ্ছেন সর্বস্তরের মানুষ। সেখানে ভিড় করেছেন বিএনপির নেতা–কর্মীরা। আছে সাধারণ মানুষের ভিড়ও। সবাই আসছেন, দোয়া করছেন, খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।
উত্তরা থেকে এসেছিলেন হাফেজ মোখলেছুর রহমান। দুহাত তুলে মোনাজাতে হু হু করে কাঁদছিলেন তিনি। মোনাজাত শেষে প্রথম আলোকে মোখলেসুর বলেন, ‘খালেদা জিয়া বাংলাদেশ ও গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাঁর ত্যাগ দেশের জন্য বিরাট উপকার হয়েছে। তাঁর জন্য গতকাল সারা দেশের মানুষ কেঁদেছে। আজ আমরা তাঁর কবরের পাশে এসেছি। তাঁর মাগফিরাতের জন্য দোয়া করতে এসেছি।’
কবরের পাশে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ সময় ধরে দোয়া পড়ছিলেন আর কাঁদছিলেন এক নারী। মোনাজাত শেষ হতেই কাছে গিয়ে পরিচয় জানতে চাইলে বলেন, তাঁর নাম আসমা আক্তার। তিনি সংসদ ভবনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা।
স্মৃতি হাতড়ে আসমা বলেন, ‘উনার (খালেদা জিয়া) সঙ্গে স্মৃতির শেষ নাই। অনেক স্মৃতি। উনি যখন সংসদে আসতেন, আমাদেরও ডাকতেন। খাওয়াদাওয়া করার সময় আমাদের ডাক পড়ত। আমরাও খাওয়াদাওয়া করতাম।’ ১৯৯১ থেকে সংসদ সচিবালয়ে কর্মরত আছেন জানিয়ে আসমা আরও বলেন, ‘যখন ঈদ হতো, যেতাম, খেতাম, ছবি তুলতাম। উনাকে সালাম করতাম। উনি আমাদের নাম ধরে ডাকতেন। অনেক কিছু করেছি। আজকের দিনে কোনো কিছু মনে থাকতেছে না।’
খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গে আসমা বলেন, ‘উনি এত নির্যাতিত ছিলেন। আল্লাহ উনাকে জান্নাতবাসী করুক।’
খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করতে এসেছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ আহমেদ সিদ্দিকী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের নেত্রী যিনি দেশমাতৃকার জন্য পুরো জীবনটাকে উৎসর্গ করে দিলেন, আল্লাহ যেন তাঁকে বেহেশত নসিব করেন।’
মিফতাহ্ সিদ্দিকী আরও বলেন, ‘সকল দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার যে শিক্ষা তিনি (খালেদা জিয়া) আমাদের দিয়ে গেছেন, এই রাস্তায় আমরা আমাদের আগামী দিনের রাজনীতির জীবনটাকে এগিয়ে নিয়ে যাব।’
খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করতে আজ সকাল সকাল দলীয় অনেক নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষ রাজধানীর জিয়া উদ্যানে ছুটে আসেন। কিন্তু সকালে উদ্যানের ভেতরে কাউকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এমনকি উদ্যানের সামনের সড়কেও যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়।
অবশ্য বেলা ১১টার দিকে জিয়া উদ্যানের সামনের সড়ক যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। দুপুর ১২টা নাগাদ জিয়া উদ্যানে খালেদা জিয়ার কবরে সাধারণ মানুষকে যেতে দেওয়া হয়।
গতকাল বুধবার বিকেল পাঁচটার কিছু আগে জিয়া উদ্যানে স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে খালেদা জিয়াকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়।
এর আগে বেলা তিনটার দিকে খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তাঁর জানাজা ঘিরে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউসহ আশপাশের এলাকা, অলিগলি লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। স্বতঃস্ফূর্ত মানুষের ঢল মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, সংসদ ভবন এলাকা ছাড়িয়ে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে উপচে পড়ে। ঢাকার বিভিন্ন রাস্তায় সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে মানুষ খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নেন।