তেহরানের ইনকিলাব স্কয়ারে শোকসভায় ইরানিরা। ৯ মার্চ, ২০২৬
তেহরানের ইনকিলাব স্কয়ারে শোকসভায় ইরানিরা। ৯ মার্চ, ২০২৬

তেহরান থেকে সাংবাদিক গাজী আবদুর রশিদ

ইরানিদের মধ্যে ভয় দেখিনি, প্রতিশোধ নেওয়ার প্রত্যয় তাঁদের

মাঝেমধ্যেই তেহরানের আকাশে উড়ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জঙ্গিবিমান। সেগুলো থেকে ফেলা হচ্ছে বোমা, ক্ষেপণাস্ত্র। বিভিন্ন স্থাপনায় এসব পড়ে আগুন জ্বলছে, আকাশে উঠছে ধোঁয়ার কুণ্ডলী। তবে তারপরেও আতঙ্কিত নন তেহরানবাসী। তাঁরা এই যুদ্ধকে জীবনের যুদ্ধ মনে করছেন। অন্যায় এই হামলার সমুচিত জবাব দিতে চান তাঁরা।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার ১১তম দিনে দেশটির রাজধানীর অবস্থা এবং সেখানকার বাসিন্দাদের মনোভাব নিয়ে এসব কথা জানিয়েছেন রেডিও তেহরানের বাংলা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক গাজী আবদুর রশিদ। তেহরানের রহ অহান স্কয়ারে বসবাস করেন তিনি। অনলাইন যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক মেসেঞ্জারের মাধ্যমে প্রথম আলোর এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় তাঁর।

গাজী আবদুর রশিদ আজ মঙ্গলবার দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, ‘ইরানিদের মধ্যে সেই ভয় দেখিনি। ইরানিরা এই যুদ্ধকে তাঁদের জীবনের যুদ্ধ মনে করছেন। ফলে তাঁরা যুদ্ধে এগিয়ে যাওয়া এবং প্রতিশোধ নেওয়ার প্রত্যয় বারবার ব্যক্ত করছেন।’

তেহরানের পশ্চিমাঞ্চলে মার্কিন–ইসরায়েলি হামলার পর ধোঁয়া দেখা যায়। ইরান, ১০ মার্চ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালানোর পর থেকেই দেশটিতে কার্যত ইন্টারনেট বন্ধ রয়েছে। আবদুর রশিদ জানান, শুধু তাঁর কর্মস্থল রেডিও তেহরানের কার্যালয়ে গেলে ইন্টারনেট সংযোগ পান। তেহরানজুড়ে বোমা–ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মধ্যেই প্রায় প্রতিদিনই অফিস করছেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধের ভয়াবহতার সাক্ষী হয়ে উঠছেন।

এমন অভিজ্ঞতার বর্ণনায় গাজী আবদুর রশিদ বলেন, ‘গতকাল লাইভ থেকে বের হয়ে যখন একটি শোকসভা দেখার জন্য যাচ্ছি, তখন মাথার ওপর দিয়ে শোঁ শোঁ করে উড়ে গেল বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিমান। আতঙ্ক আর উৎসাহ নিয়ে তাকিয়ে দেখলাম। তবে তখন হামলা হয়নি কোনো। হামলা হলো রাত ১২টায়। বিকট শব্দে ১৬–১৭টি ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ল তেহরানের নিচু এলাকাগুলোতে। ঘন অন্ধকার চিরে এক ঝলক আলো উঁকি দিয়েই বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলীতে ঢেকে গেল পুরো আকাশ।’

তেহরানের উত্তর–পূর্বের আকদাসিয়েহ তেল ডিপোতে রোববার হামলার পর রাতভর আগুন জ্বলতে ও ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। ০৮ মার্চ, ২০২৬

গতকাল রাতে তেহরানে আরও হামলা হয় জানিয়ে গাজী আবদুর রশিদ বলেন, ‘মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। তবে হামলায় হতাহত তেমন নেই। আজও তেহরানের আকাশে হঠাৎ হঠাৎ যুদ্ধবিমান হানা দিচ্ছে। তবে ইরানিদের মধ্যে আতঙ্ক কম। সেখানকার জনজীবনও অনেকটা স্বাভাবিক গতিতে চলছে। গণপরিবহন, দোকানপাট খোলা রয়েছে। তবে ক্রেতার সংখ্যা কম। অফিস–আদালত চালু রয়েছে, তবে সব চলছে না।’

গতকাল তেহরানের ভ্যালিয়ার্স স্ট্রিট ও ইনকিলাব স্কয়ারে অনুষ্ঠিত শোকসভায় লাখ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছিলেন বলে জানান গাজী আবদুর রশিদ। তিনি বলেন, কয়েক কিলোমিটার সড়কজুড়ে মানুষ আর মানুষ ছিল। তাঁদের মধ্যে কোনো আতঙ্ক ছিল না। তাঁরা বলছিলেন, ‘মার্ক বার আমেরিকা, মার্ক বার ইসরায়েল’ অর্থাৎ আমেরিকা নিপাত যাক, ইসরায়েল নিপাত যাক।