
গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে থাকা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে এক–এগারোর সময় তাঁর প্রভাবশালী হয়ে ওঠার প্রক্রিয়া, পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে সুবিধাভোগের অভিযোগ এবং এ ক্ষেত্রে তাঁর সহযোগীদের বিষয়ে তথ্য জানার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর কাছে থেকে এখন পর্যন্ত খুব বেশি তথ্য পায়নি তদন্তসংশ্লিষ্টরা।
এক-এগারোর সময়ের বিতর্কিত ও প্রভাবশালী এই সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে গত সোমবার রাতে গ্রেপ্তার করে ডিবি। তাঁকে পল্টন থানার একটি মানব পাচার মামলায় গত মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয় ডিবি। গতকাল বৃহস্পতিবার ছিল রিমান্ডের দ্বিতীয় দিন।
জিজ্ঞাসাবাদ–সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এক–এগারোর নেপথ্যের প্রধান উদ্যোক্তা। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েও তিনি বিশেষ সুবিধাভোগী। অবসরে যাওয়ার পর রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে জনশক্তি রপ্তানির ব্যবসা শুরু করেন। মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নাম করে চক্র গড়ে তুলে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে। এসব বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে তিনি কীভাবে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করেছেন, সেই বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিবির যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী সুনির্দিষ্ট মামলায় রিমান্ডে আছেন। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এ–সংক্রান্ত অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এসব তথ্য যাচাই–বাছাই করে দেখা হচ্ছে।
মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে ঢাকা ও ফেনীতে ১১টি মামলা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সূত্র জানায়, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাঁর বিরুদ্ধে ১১৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করেছে। দুদক ওই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখাতে আদালতে আবেদন করেছে। আদালত এ বিষয়ে আদেশের জন্য ৯ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন।