
রাজধানীর একটি বাড়িতে নিরাপত্তা প্রহরীর কাজ করেন সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধ বেলাল হোসেন। গত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি তিনি। তবে এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোট দেওয়ার আশা নিয়ে ঢাকা ছাড়ছেন তিনি। গন্তব্য ময়মনসিংহের গফরগাঁও।
বুধবার দুপুরে কমলাপুর রেলস্টেশনে দেখা যায় বাড়ি ফেরা মানুষের ভিড়। গতকালের তুলনায় ভিড় কিছুটা কম হলেও ট্রেনে কোনো জায়গা নেই। টিকিট না পেয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনেককে ট্রেনের ছাদে উঠেও গন্তব্যে রওনা হতে দেখা গেছে।
বেলাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘গত তিনবার আমরা ভোট দিতে পারছিলাম না। ২০১৮ সালেও ভোট দিতে চেষ্টা করছিলাম, কিন্তু কেন্দ্রে যাইতে পারি নাই। হেরা আমগো ভোট আগেই দিয়া দিছে। অহন যখন সুযোগ আইছে, আমরা চাই দুই-একটা পার্টি আসুক। আমরার নিয়ত এইটাই।’
অনেক চেষ্টা করেও ট্রেনের টিকিট জোগাড় করতে না পারলেও দমে যাননি এই বৃদ্ধ। তিনি বলেন, ‘ট্রেনের টিকিট পাই নাই, দাঁড়ায়া যাইতে হইব।’
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় ডিমের ব্যবসা করেন ২৫ বছর বয়সী তরুণ মো. নাওশীদ। গতকাল কাজের চাপে যেতে না পারায় বুধবার ময়মনসিংহের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন তিনি।
উচ্ছ্বসিত নাওশীদ বলেন, ‘ভোটার হওয়ার পর এবারই প্রথম ভোট দিতে বাড়ি যাচ্ছি। নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারব ভেবে আনন্দ লাগছে।’
ঘরমুখী মানুষের এই ভিড়ে দুর্ভোগের চিত্রও দেখা গেছে। টিকিট না পেয়েও অনেককে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়।
কিশোরগঞ্জগামী যাত্রী রেবেকা সুলতানা বলেন, ‘ভোট দিতে বাড়ি যাব, কিন্তু অনেকক্ষণ চেষ্টা করেও কোনো টিকিট পাইনি। এখন সিট ছাড়া দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে যেতে হবে। এ ছাড়া তো আর কোনো উপায় নেই।’
শুধু কমলাপুর রেলস্টেশনই নয়, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল ও সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালেও অন্যান্য দিনের তুলনায় ঘরমুখী মানুষের উপস্থিতি অনেক বেশি ছিল।