
বাংলাদেশে মহিষের মাংস রপ্তানি করতে চায় ভারত। এ জন্য তারা অনুমতির অনুরোধ জানিয়ে বাংলাদেশকে চিঠি দিয়েছে।
বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বলছে, তারা দেশের খামারিদের স্বার্থের কথা চিন্তা করে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে। এ-সংক্রান্ত একটি নীতিমালা তৈরির কাজ করছে তারা।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহজাদা আজ বুধবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘মুক্তবাজার অর্থনীতিতে যেমন আমদানি ঠেকানো যাবে না, তেমনি বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে দেশের মাংসের চাহিদা অভ্যন্তরীণভাবে মেটানোর চেষ্টা করতে হবে। এই দুই দিক বিবেচনা করে আমরা একটি নীতিমালা তৈরি করছি।’
সরকারের অন্যান্য বিভাগের সঙ্গে আলোচনার পর আমরা এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানাব।’
বাংলাদেশে মহিষের মাংস রপ্তানির অনুমতির অনুরোধ জানিয়ে ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন ৭ জুলাই মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়।
চিঠিতে বলা হয়, ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো উচ্চমানের ও স্বাস্থ্যসম্মতভাবে প্রক্রিয়াজাত করা মাংসের বৃহত্তম রপ্তানিকারক। সেটি বাংলাদেশে অ-প্রতিযোগিতামূলক। মহিষের মাংস রপ্তানির ক্ষেত্রে শুল্ক কমানোরও অনুরোধ জানানো হয় চিঠিতে।
ভারতের অনুরোধের বিষয়ে মতামত দিতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে একটি চিঠি দেওয়া হয়। তবে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো মতামত দেননি।
গত মার্চ ও জুন মাসে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে একই ধরনের অনুরোধ জানিয়ে দুই দফা চিঠি দেয় বাংলাদেশ মিট ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমআইটিএ)। কিন্তু সরকার এই অনুরোধে সাড়া দেয়নি।
পরে অল ইন্ডিয়ান বাফেলো অ্যান্ড শিপ মিট এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (এআইএমএলইএ) ও বিএমআইটিএর অনুরোধে ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন বাংলাদেশের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে চিঠিতে দেয়।
বিএমআইটিএ সূত্র জানায়, দেশে প্রায় দুই মাস ধরে মাংস আমদানি বন্ধ রয়েছে।
চলতি বছর এক নির্দেশনায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, হিমায়িত মহিষের মাংস আমদানির জন্য প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে অনুমতি লাগবে।
একই সঙ্গে বলা হয়, ২০২১-২২ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে মাংস আমদানিতে ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
বিএমআইটিএর সভাপতি শামীম আহম্মেদ প্রথম আলোকে বলেন, দেশে গবাদিপশুর সংখ্যা ও উৎপাদন বেড়েছে। সরকার দাবি করছে, বাংলাদেশ গরু-ছাগল উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। কিন্তু এটা শুধু কোরবানির সময়ের জন্য প্রযোজ্য। বছরের বাকি সময় দেশে গরু-মহিষের মাংস গরিব মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে থাকে। ফলে আমদানি না হলে দেশের পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।
বিএমআইটিএ সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ সাধারণত বছরে ১০ থেকে ১২ হাজার টন হিমায়িত মাংস আমদানি করে। ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ইথিওপিয়া, ফ্রান্স, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, চীন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে এই মাংস আমদানি হয়। আমদানি হওয়া মাংসের বেশির ভাগই আসে ভারত থেকে।
তবে মাংস আমদানির বিপক্ষে বাংলাদেশের ডেইরি ফারমার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশে গবাদিপশুর উৎপাদন বাড়ছে। দেশের গবাদিপশু দিয়ে অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ সম্ভব।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ ডেইরি ফারমার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. ইমরান হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, গবাদিপশু লালন-পালনের ক্ষেত্রে সরকার যেসব সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে, তা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে দাম কমবে।
পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও অর্থনীতিবিদ কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, ‘গত কয়েক বছরে দেশে বিপুলসংখ্যক উদ্যোক্তা গবাদিপশু লালন-পালন খাতে বিনিয়োগ করেছেন। ফলে আমরা অন্তত ঈদুল আজহায় আমদানি ছাড়াই কোরবানির পশুর চাহিদা পূরণ করতে পারছি। এটা একটা বড় সাফল্য। এই সাফল্য ধরে রাখতে হলে মাংস আমদানি নিরুৎসাহিত করতে হবে। দেশীয় খাতকে সুরক্ষা দিতে হবে।’