আলু
আলু

চট্টগ্রামের বাজার

পাইকারির ৪৫ টাকার আলু খুচরায় ৭৫

মৌসুম শুরু হওয়ার পর বাজারে এসেছে নতুন আলু। পাশাপাশি পুরোনো আলুও আছে। তবু আলুর দাম কমছে না। চট্টগ্রাম নগরের বাজারগুলোতে খুচরা পর্যায়ে নতুন আলু প্রতি কেজি গড়ে ৭৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ একই আলু পাইকারি আড়তে বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৪৭ টাকায়।

আজ শুক্রবার সকালে নগরের বহদ্দারহাট, চকবাজার ও কর্ণফুলী কমপ্লেক্স এলাকার খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায় প্রতি কেজি নতুন আলু ৭৫ থেকে ৮০ টাকায় দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে চট্টগ্রামে আলুর পাইকারি আড়ত চাক্তাই ও রিয়াজউদ্দিন বাজারে গিয়ে দেখা যায়, নতুন আলু ৪৫ থেকে ৪৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিছুটা ভালো মানের নতুন আলু বিক্রি হয়েছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকায়।

এদিকে নতুন আলু এলেও খুচরা বাজারে এখনো পুরোনো আলুর দাম চড়া। পুরোনো আলু বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকা কেজি দরে। তবে পাইকারি আড়তে পুরোনো আলুর দাম প্রতি কেজি ৬০ টাকা।

মৌসুম চললেও আলুর দাম চড়ার কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারতীয় আলু আমদানি বন্ধ ও দেশীয় আলুর সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে। তবে আড়তদারেরা বলছেন, সরবরাহ কম থাকায় দাম কিছুটা বাড়তি। তবে খুচরা ব্যবসায়ীরা বেশি মুনাফা করার জন্যই বাড়তি দাম নিচ্ছেন।

রিয়াজউদ্দিন বাজারের একজন আড়তদার শাহাবউদ্দিন শিহাব। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বর্তমান বাজারে আড়তে সাধারণ মানের প্রতি কেজি আলু ৪৫ থেকে ৪৭ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে সরবরাহ কিছুটা কম। শুক্রবার রিয়াজউদ্দিন বাজারে আলু এসেছে ৯ গাড়ি, যা প্রায় ১১৭ টন।

কয়েক মাস ধরে আলুর দাম চড়া। গত অক্টোবরের শেষে আলুর দাম সর্বোচ্চ ৭০ টাকায় পৌঁছায়। এরপর ভারত থেকে আলু আমদানির অনুমতি দেয় সরকার। তবে এখন আলু আমদানি হচ্ছে না।

আড়তদারেরা বলছেন, বৃষ্টির কারণে আলুর জোগানে ঘাটতি হয়েছে। এই ঘাটতি পূরণে আরও কিছুদিন আলু আমদানি করার প্রয়োজন ছিল। আলুর এমন ঘাটতির কারণেই দাম বাড়তি বাজারে।

চাক্তাই আড়তদার ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম প্রথম আলোকে বলেন, দেশীয় আলু পুরোপুরি বাজারে আসতে আরও ১৫ দিনের মতো সময় লাগবে। এর মধ্যে ভারতীয় আলু না আসায় সংকট দেখা দিয়েছে। আর এ সুযোগে খুচরা ব্যবসায়ীরা বাড়তি দামে আলু বিক্রি করছেন।

অন্য সবজির দামও চড়া
চট্টগ্রামের খুচরা বাজারগুলোতে শীতের সবজি এসেছে। তবে এরপরও বাজারে এখনো সবজির দাম চড়া। অধিকাংশ সবজির কেজি ৫০ টাকার বেশি। খুচরা বাজারগুলোতে শিম প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৯০ টাকা, ফুলকপি ৫০ থেকে ৬০ ও গাজর ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে আজ।

এ ছাড়া খুচরায় টমেটো প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৭০, ঢ্যাঁড়স ৭০ থেকে ৭৫; লাউ, মিষ্টিকুমড়া ও মুলা ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে পাইকারি পর্যায়ে দেশি শিম ও টমেটো ছাড়া অন্য সবজির কেজি ৩০ টাকার কমে বিক্রি হচ্ছে বলে জানালেন রিয়াজউদ্দিন বাজারের আড়তদারেরা।

রিয়াজউদ্দিন বাজার আড়তদার কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফারুক শিবলী বলেন, আড়তে শিম ছাড়া অন্য সব সবজি ৩৫ টাকার নিচে রয়েছে। বাজারে সবজির সরবরাহ মোটামুটি রয়েছে। বৃষ্টির কারণে উৎপাদন অঞ্চলে আলুর ফলন নষ্ট হওয়ায় এখন আলুর দাম কিছুটা বেশি।