‘চৌর্যবৃত্তির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় আইবিএর অধ্যাপক রিদওয়ানুল হকের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি’ শীর্ষক প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর (ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট) অধ্যাপক মো. রিদওয়ানুল হক। অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁকে ওই অভিযোগ থেকে অব্যাহতিও দিয়েছে।
আজ বুধবার পাঠানো এক প্রতিবাদলিপিতে অধ্যাপক রিদওয়ানুল হক বলেছেন, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ ও ঘটনাপ্রবাহ এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা পাঠকের কাছে বিভ্রান্তিকর ধারণা সৃষ্টি করতে পারে। তিনি বলেন, ‘প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে আমার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। অথচ সংশ্লিষ্ট বিষয়টি নতুন কোনো অভিযোগ নয়; এটি ২০১৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারণী ফোরাম বোর্ড অব গভর্ন্যান্সের নির্দেশনায় গঠিত তদন্ত কমিটির মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গভাবে তদন্ত ও নিষ্পত্তি করা হয়েছিল। তৎকালীন সহ-উপাচার্যের (শিক্ষা) নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটিতে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন ও ফিন্যান্স বিভাগের একজন অধ্যাপক সদস্য হিসেবে ছিলেন।’
প্রতিবাদপত্রে বলা হয়, তদন্ত শেষে কমিটি সুস্পষ্টভাবে মতামত দেয় যে সংশ্লিষ্ট গবেষণাপত্রটি চূড়ান্তভাবে গৃহীত বা প্রকাশিত হয়নি এবং চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। পরবর্তী সময়ে তৎকালীন উপাচার্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বোর্ড অব গভর্ন্যান্স সর্বসম্মতিক্রমে সেই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে। তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের যথাযথ কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমি ওই অভিযোগ থেকে সম্পূর্ণভাবে অব্যাহতি লাভ করি। ওই ঘটনার পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়েছে এবং এর মধ্যে আমি অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। কিন্তু আগেই নিষ্পত্তিকৃত একটি বিষয়কে পুনরায় সামনে এনে কিছু ব্যক্তি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে হয়রানি ও হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছেন বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।’
অভিযোগের বিষয়ে আইবিএর এই অধ্যাপক বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট গবেষণাপত্রটির লেখক ছিলেন মোট তিনজন। কিন্তু পুনরায় উত্থাপিত অভিযোগে শুধু আমার নামকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, যা বিষয়টির উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপট সম্পর্কে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের জন্ম দেয়।’ তিনি আরও বলেন, তাঁর বক্তব্য ছাড়াই একতরফাভাবে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় পাঠকের সামনে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও ভারসাম্যপূর্ণ চিত্র আসেনি।
অধ্যাপক রিদওয়ানুল বলেছেন, প্রকাশিত প্রতিবেদনে মূলত একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত—অর্থাৎ তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি তুলে ধরা হলেও সংশ্লিষ্ট ঘটনার পূর্বাপর প্রেক্ষাপট, ২০১৮ সালে গঠিত তদন্ত কমিটির অনুসন্ধান, বোর্ড অব গভর্ন্যান্সের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং বিষয়টির পূর্ববর্তী নিষ্পত্তির বিষয়গুলো যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি।
উল্লেখ্য, গতকাল মঙ্গলবার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, অধ্যাপক মো. রিদওয়ানুল হকের বিরুদ্ধে অধ্যাপক পদে আবেদনের সময় জমা দেওয়া প্রবন্ধে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। বিষয়টি অধিকতর তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।