মো. জোবায়েদ হোসেন
মো. জোবায়েদ হোসেন

জোবায়েদ হত্যা মামলায় তিন আসামির জামিন নাকচ, অভিযোগ গঠনের শুনানি ২৮ অক্টোবর

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জোবায়েদ হোসেন হত্যা মামলায় তিন আসামির জামিনের আবেদন নাকচ করেছেন আদালত। একই সঙ্গে মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ২৮ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।

রোববার ঢাকার ২০তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মাজহারুল ইসলাম এ আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মাজেদুল ইসলাম এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

মাজেদুল ইসলাম বলেন, রোববার মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য ছিল। তবে আসামিপক্ষ সময়ের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে কারাগারে থাকা তিন আসামির জামিনের আবেদন নাকচ করে দেন আদালত।

জামিনের আবেদন নাকচ হওয়া তিন আসামি হলেন নিহত জোবায়েদের ছাত্রী বার্জিস শাবনাম বর্ষা (১৯), বর্ষার প্রেমিক মাহির রহমান (১৯) এবং মাহিরের বন্ধু ফারদীন আহম্মেদ আয়লান (২১)।

মামলার নথি ও অভিযোগপত্র সূত্রে জানা গেছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী জোবায়েদ হোসেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। গত বছরের ১৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার আরমানিটোলার ১৫ নম্বর নূরবক্স লেনের ‘রৌশান ভিলা’ নামের একটি বাসায় ছাত্রীকে পড়াতে গিয়ে খুন হন তিনি।

এ ঘটনার এক দিন পর নিহত জোবায়েদের বড় ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত বাদী হয়ে বংশাল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার প্রায় ৯ মাসের তদন্ত শেষে গত ৩০ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বংশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আশরাফ হোসেন।

তদন্তে উঠে এসেছে, এটি তাৎক্ষণিক কোনো হামলা ছিল না, বরং প্রায় এক মাস ধরে পরিকল্পনা, নজরদারি, ঘটনাস্থল রেকি এবং সুযোগের অপেক্ষার পর হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়। প্রেমের সম্পর্কের জটিলতা এবং অন্তরঙ্গ ছবি-ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাই ছিল এই হত্যার মূল কারণ।

তদন্ত কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, মাহির রহমান ছিলেন হত্যাকাণ্ডের মূল হামলাকারী, বর্ষা ছিলেন পরিকল্পনাকারী এবং আয়লান সহযোগী। এ মামলায় তিন আসামিই বর্তমানে কারাগারে।