লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় এক মাস ধরে বন্ধ থাকা গণপাঠাগারটি (পাবলিক লাইব্রেরি) আবারও চালু করার উদ্যোগ নেওয়ার জন্য জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ বেসরকারি গ্রন্থাগার সংহতি। গতকাল বৃহস্পতিবার এক স্মারকলিপিতে এই আহ্বান জানিয়েছে তারা।
গতকাল জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক আফসানা বেগমের হাতে স্মারকলিপি দেন গ্রন্থাগার সংহতির একদল প্রতিনিধি।
পাঠাগারটিকে রায়পুর উপজেলার একমাত্র পাঠাগার উল্লেখ করে স্মারকলিপিতে বলা হয়, উদ্বোধনের পর থেকে শতাধিক পাঠক পাঠাগারে বই পড়তে আসত। পাঠাগার পরিচালনার দায়িত্বে একজন গ্রন্থাগারিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এক মাস ধরে পাঠাগারটি বন্ধ। সব বইও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, পাঠাগারটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে ভাড়া দেওয়া হচ্ছে।
বেসরকারি গ্রন্থাগার সংহতি মনে করে, বর্তমান সময়ে একটা পাঠাগার গড়ে তোলা এবং সচল রাখা অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ। দেশের অনেক স্বনামধন্য পাঠাগার বিভিন্ন কারণে বন্ধ অথবা বন্ধের পর্যায়ে আছে। এমন অবস্থায় একটি পাঠাগারকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য জায়গা ছেড়ে দেওয়ার মতো ঘটনা কেবল বেসরকারি গ্রন্থাগারের জন্যই নয়, পাঠকদের জন্যও হতাশার।
এই পাঠাগারকে চালু এবং আরও শক্তিশালী করে এর গুরুত্ব জাতির কাছে তুলে ধরার প্রয়াসকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করে বেসরকারি গ্রন্থাগার সংহতি। বেসরকারি পাঠাগারের অভিভাবক হিসেবে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র এই ব্যাপারে উদ্যোগ নেবে বলে আশা তাদের। বাংলাদেশ বেসরকারি গ্রন্থাগার সংহতি দেশের বেসরকারি গ্রন্থাগারগুলোকে শক্তিশালী করার যেকোনো প্রয়াসে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের সঙ্গে থাকবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
রায়পুর শহরের উপজেলা পরিষদ সড়কের মার্চেন্টস একাডেমির সামনে সরকারি জমিতে ২০২২ সালে লাইব্রেরি ভবনটি নির্মাণের কাজ শুরু করে উপজেলা প্রশাসন। স্থানীয় ব্যক্তিদের সহযোগিতায় ও সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা দিয়ে পাঠাগার ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেন তৎকালীন রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অঞ্জন দাস। প্রায় ৯০০ বর্গফুট জমিতে গড়ে তোলা ভবনটি ২০২৩ সালের ৩ জানুয়ারি উদ্বোধন করেন তখনকার জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার হোসেন আকন্দ।