
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি এবং আরও দুজনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
বিপরীতে সাজাপ্রাপ্ত আসামি রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকারের আইনজীবী এই রায়ে সংক্ষুব্ধ হয়েছেন। সাজার বিরুদ্ধে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আজ রোববার এই মামলার রায় দিয়েছেন। রায়ে এই মামলার পাঁচ আসামির মধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান (ইতিমধ্যে চানখাঁরপুলের মামলায় তাঁর মৃত্যুদণ্ড হয়েছে), ডিএমপির খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার রাশেদুল ইসলাম ও রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রামপুরা থানার সাবেক উপপরিদর্শক তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত এই চার আসামিই বর্তমানে পলাতক।
এ ছাড়া এই মামলায় এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে। আজ রায় ঘোষণা উপলক্ষে তাঁকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
রায় ঘোষণার পর ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এক ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, রায় যথার্থ হয়েছে। তাঁরা এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করছেন। মামলাটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল ৩ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড, ১ আসামিকে যাবজ্জীবন ও ১ আসামিকে ২০ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন। এই রায়ে মহান আল্লাহর কাছে তাঁরা শুকরিয়া আদায় করছেন। তাঁরা মনে করেন, শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের পরিবার এর মাধ্যমে ন্যায়বিচার পেয়েছে।
ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাজাপ্রাপ্ত আসামি চঞ্চল চন্দ্রের আইনজীবী সারোয়ার জাহান সাংবাদিকদের বলেন, এই রায়ে তাঁরা ক্ষুব্ধ। তাঁর দাবি, ঘটনার দিন চঞ্চলের কাছে কোনো অস্ত্র ছিল না এবং তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না। এসব নথিপত্রে উল্লেখ আছে এবং পরিস্থিতিও তাই বলে। আইনজীবী বলেন, হঠাৎ আসা একটা ভিডিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এই রায়ের বিরুদ্ধে তাঁরা আপিল বিভাগে যাবেন।