সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বড়দল আফতাব উদ্দিন কলেজিয়েট স্কুলে পাইলট ভিত্তিতে ‘অ্যাডাপটেশন ফোর্ট্রেস’-এর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। বাংলাদেশে প্রথম এমন ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে, যা তীব্র তাপপ্রবাহ থেকেও মানুষকে সুরক্ষা দেবে
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বড়দল আফতাব উদ্দিন কলেজিয়েট স্কুলে পাইলট ভিত্তিতে ‘অ্যাডাপটেশন ফোর্ট্রেস’-এর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। বাংলাদেশে প্রথম এমন ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে, যা তীব্র তাপপ্রবাহ থেকেও মানুষকে সুরক্ষা দেবে

বাংলাদেশে প্রথম ‘অ্যাডাপটেশন ফোর্ট্রেস’: তাপপ্রবাহ থেকেও দেবে সুরক্ষা

শুধু ঝড়–জলোচ্ছ্বাস নয়, তীব্র তাপপ্রবাহ থেকেও মানুষকে সুরক্ষা দেবে— বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এমন আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বড়দল আফতাব উদ্দিন কলেজিয়েট স্কুলে ‘অ্যাডাপটেশন ফোর্ট্রেস’ নামের এই আশ্রয়কেন্দ্রের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে।

ব্র্যাকের অংশীদারত্বে ‘ফোর্ট্রেস’ নির্মাণ করছে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) ও কমিউনিটি জামিলের যৌথ উদ্যোগে গঠিত জামিল অবজারভেটরি ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম নেটওয়ার্ক (জামিল অবজারভেটরি ক্রুজনেট)।

এই অ্যাডাপটেশন ফোর্ট্রেসের মাধ্যমে বিদ্যমান স্কুল ও ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রকে রূপান্তর করা হচ্ছে। এটি তীব্র তাপপ্রবাহের সময় নিরাপদ ও শীতল আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করা যায়। বিদ্যুৎ চলে গেলেও সৌরবিদ্যুৎ ও বিকল্প ব্যাটারির মাধ্যমে শীতলীকরণ–ব্যবস্থা সচল থাকবে। পাশাপাশি বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ এবং অতিরিক্ত সৌরবিদ্যুৎ স্থানীয় জনগণের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া যাবে। এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে আশ্রয়কেন্দ্রটি জলবায়ু সহনশীলতার স্থানীয় কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।

এই পাইলট প্রকল্পটি সফল হলে পুরো অঞ্চলে ১ হাজার ২৫০টি অ্যাডাপটেশন ফোর্ট্রেস স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। যা প্রায় ৫ লাখ মানুষের জন্য তাপপ্রবাহে আশ্রয়ের সুযোগ সৃষ্টি করবে। ইতিমধ্যে যশোর জেলার সাতবাড়িয়া হাইস্কুলে দ্বিতীয় পাইলট প্রকল্পের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।

কমিউনিটি জামিলের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল লতিফ জামিল কেবিই বলেন, ‘জামিল অবজারভেটরি ক্রুজনেটের প্রথম পাইলট অ্যাডাপটেশন ফোর্ট্রেস নির্মাণ বাংলাদেশ ও এই অঞ্চলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ভবিষ্যতে তাপজনিত দুর্যোগ আরও ঘন ঘন ঘটবে এবং লাখো মানুষের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলবে। বিষয়টি মাথায় রেখে ঘূর্ণিঝড় ও তাপজনিত দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম ও কার্যকর প্রতিক্রিয়া হিসেবে ফোর্ট্রেসটি নিমার্ণ করা হচ্ছে।’

জামিল অবজারভেটরি ক্রুজনেটের প্রধান গবেষক অধ্যাপক আলফাতিহ আলতাহির বলেন, ‘এই প্রথম দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের পাশাপাশি তাপপ্রবাহ থেকে আশ্রয়ের ধারণা চালু করা হচ্ছে।’

জামিল অবজারভেটরি ক্রুজনেটের নির্বাহী পরিচালক ডেবোরাহ ক্যাম্পবেল বলেন, ‘বাংলাদেশ ক্রমেই আরও উষ্ণ হয়ে উঠছে এবং তাপপ্রবাহের সংখ্যা ও তীব্রতা বাড়ছে। অ্যাডাপটেশন ফোর্ট্রেস বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে জলবায়ু–সহনশীল অবকাঠামো উন্নয়নের একটি কার্যকর মডেল হয়ে উঠতে পারে।’

ব্র্যাকে জামিল অবজারভেটরি ক্রুজনেটের প্রধান গবেষক মো. লিয়াকত আলী বলেন, ‘বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ক্রমবর্ধমান তাপঝুঁকি মোকাবিলায় অ্যাডাপটেশন ফোর্ট্রেস উদ্যোগে জামিল অবজারভেটরি ক্রুজনেটের অংশীদার হতে পেরে ব্র্যাক গর্বিত। বিদ্যমান ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রকে বহুমুখী ও জলবায়ু–সহনশীল অবকাঠামোতে রূপান্তর করা হচ্ছে।’