আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

শাপলা চত্বরের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী, সেনাপ্রধান, পুলিশপ্রধানসহ আসামি যাঁরা

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ৪১ জন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২–এ আজ সোমবার এ অভিযোগ দাখিল করেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

শাপলা চত্বরের এ মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগে যে ৪১ জনকে আসামি করা হয়েছে তাঁদের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রীসহ ১৫ জন সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য, ২১ জন বিভিন্ন বাহিনীর সাবেক সদস্য, তিনজন রাজনীতিবিদ ও সংগঠক এবং দুজন সাংবাদিক রয়েছেন।

এ মামলার এক নম্বর আসামি করা হয়েছে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদকেও আসামি করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সময় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক ছিলেন। পুলিশের সাবেক চার প্রধানকেও আসামি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে আছেন পুলিশের তৎকালীন মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হাসান মাহমুদ খন্দকার। তৎকালীন পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন ও অপারেশনস) এ কে এম শহীদুল হক, পরে তিনি আইজিপি হন। তৎকালীন অতিরিক্ত আইজিপি ও এসবির প্রধান মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। পরে তিনিও আইজিপি হন। তৎকালীন ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার (ডিএমপি) বেনজীর আহমেদ, পরে তিনিও আইজিপি হন। তৎকালীন র‌্যাবপ্রধান মো. মোখলেছুর রহমানকেও এ মামলায় আসামি করা হয়েছে।

সাবেক মন্ত্রী–সংসদ সদস্য

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও যেসব সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের আসামি করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে আছেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শামসুল হক টুকু, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সাবেক কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুব উল আলম হানিফ, সাবেক সংসদ সদস্য আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক সংসদ সদস্য মৃণাল কান্তি দাস ও সাবেক সংসদ সদস্য এস এম জাহিদ।

সাংবাদিক ও অন্যান্য

শাপলা চত্বরের এ মামলায় সে সময় যুবলীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধ) চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, একাত্তর টিভির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু ও সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপাকে আসামি করা হয়েছে।

বিভিন্ন বাহিনীর সদস্য

শাপলা চত্বরের এ মামলায় বিভিন্ন বাহিনীর সাবেক সদস্যদেরও আসামি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন র‌্যাবের পরিচালক (ইন্টেলিজেন্স) মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান এবং র‌্যাবের তৎকালীন এডিজি (অপস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মজিবুর রহমান।

আসামিদের মধ্যে আরও আছেন ডিএমপির তৎকালীন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহা. আব্দুল জলিল মন্ডল, পরে ডিআইজি হন। ডিবির তৎকালীন অতিরিক্ত কমিশনার শেখ মুহাম্মাদ মারুফ হাসান। পরে তিনি অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক হন।

এসবির তৎকালীন অতিরিক্ত ডিআইজি মাহবুব হোসেন। পরে তিনি পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক হন।

ডিবির তৎকালীন জয়েন্ট কমিশনার মো. মনিরুল ইসলাম। পরে তিনি অতিরিক্ত আইজিপি হন।

ডিএমপির তৎকালীন ডিসি মো. আনোয়ার হোসেন। পরে তিনি অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক হন।

ডিএমপির তৎকালীন ডিসি (ট্রাফিক দক্ষিণ) মহা. আশরাফুজ্জামান। পরে তিনি ডিআইজি হন।

ডিএমপির তৎকালীন এডিসি এস এম মেহেদী হাসান। পরে তিনি অতিরিক্ত ডিআইজি হন।

ডিএমপির লালবাগের তৎকালীন ডিসি মোহাম্মদ হারুন–অর–রশীদ। পরে তিনি ডিআইজি হন।

ডিএমপির তৎকালীন তেজগাঁওয়ের ডিসি বিপ্লব কুমার সরকার। পরে তিনি ডিআইজি হন।

নারায়ণগঞ্জের তৎকালীন পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম। পরে তিনি ডিআইজি হন।

ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের তৎকালীন এডিসি মো. আসাদুজ্জামান। পরে তিনি পুলিশ সুপার হন।

ডিএমপির তৎকালীন রমনা অঞ্চলের এসি এস এম শিবলী নোমান, মতিঝিল থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বি এম ফরমান আলী।