জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং ২০২৫ সালের গণভোট অধ্যাদেশের ৩ ধারা ও তফসিল প্রশ্নে রুল শুনানির জন্য আগামী ১৭ জুন দিন নির্ধারণ করেছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি রাজিক–আল–জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ সোমবার রুল শুনানির জন্য এ দিন নির্ধারণ করেন।
রুল শুনানির জন্য আগামী ১৭ জুন দিন নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামী ও দলটি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, জামায়াতে ইসলামী এবং দলটি থেকে নির্বাচিত ৬৬ জন সংসদ সদস্য এ–সংক্রান্ত রিটে ব্যক্তিগতভাবে বিবাদী হিসেবে গত সপ্তাহে পক্ষভুক্ত হয়েছেন।
এদিকে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং ২০২৫ সালের গণভোট অধ্যাদেশের ৩ ধারা ও তফসিলের বৈধতা নিয়ে করা পৃথক রিটে বিবাদী হিসেবে পক্ষভুক্ত হতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আবেদন করেছে। বিষয়টি শুনানির অপেক্ষায় বলে জানিয়েছেন এনসিপির আইনবিষয়ক সম্পাদক জহিরুল ইসলাম মুসা।
এর আগে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং ২০২৫ সালের গণভোট অধ্যাদেশের ৩ ধারা ও তফসিলের বৈধতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী চৌধুরী মো. রেদোয়ান-ই-খোদা গত ২৩ ফেব্রুয়ারি একটি রিট করেন।
জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ এবং এর আলোকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সংবিধান সংস্কার পরিষদ সদস্যের শপথের জন্য দেওয়া চিঠির বৈধতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী গাজী মো. মাহবুব আলম গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে আরেকটি রিট করেন। পৃথক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ৩ মার্চ হাইকোর্ট রুল দেন।
প্রথম রিটের পরিপ্রেক্ষিতে দেওয়া রুলে ২০২৫ সালের গণভোট অধ্যাদেশের ৩ ধারা ও তফসিল কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং বাতিল ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। অধ্যাদেশের ৩ ধারায় গণভোটের চারটি প্রশ্ন উল্লেখ রয়েছে। আর তফসিলে জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫ যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে, এমন ৩০টি বিষয় উল্লেখ রয়েছে। আইনসচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখ্য সচিবকে চার সপ্তাহের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়।
অপর রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হওয়া রুলে ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বরের জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথের জন্য ১৬ ফেব্রুয়ারির চিঠি (মেমো) কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্দিষ্ট সংসদ সদস্যের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ পরিচালনা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, সে বিষয়েও রুলে জানতে চাওয়া হয়। আইনসচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখ্য সচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।
ওই দুই আইনজীবীর করা পৃথক দুটি রিট আদালতের আজকের কার্যতালিকায় ৪ ও ৫ নম্বর ক্রমিকে ওঠে। রুল শুনানির জন্য আদালত দিন নির্ধারণ করেন। এর মধ্য দিয়ে পৃথক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হওয়া রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শুরু হতে যাচ্ছে।