বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘটনায় করা পৃথক পাঁচ মামলায় সাবেক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী চিকিৎসক এনামুর রহমানকে দেওয়া জামিন স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক রোববার এ আদেশ দেন।
জুলাই অভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ২০২৪ সালে সাভার থানা ও সাভার মডেল থানায় মামলাগুলো দায়ের করা হয়। এসব মামলায় অধস্তন আদালতে বিফল হয়ে হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন এনামুর রহমান। শুনানি নিয়ে গত ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট রুলসহ এনামুরকে এক বছরের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন।
এই জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ পৃথক আবেদন করে। আবেদনগুলো শুনানির জন্য চেম্বার আদালতের রোববারের কার্যতালিকায় ওঠে। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খালেদ মাহমুদুর রহমান। এনামুরের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান ও মুহাম্মদ মামুনুর রশিদ।
পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খালেদ মাহমুদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় হত্যার অভিযোগে এই পাঁচটি মামলা দায়ের হয়। পাঁচ মামলায় হাইকোর্টের এনামুরকে দেওয়া জামিন স্থগিত করেছেন চেম্বার আদালত।
এর আগে ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি এনামুর রহমানকে রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরদিন ২৭ জানুয়ারি মিরপুর থানার একটি হত্যা মামলায় ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। সাভার থানায় করা মো. হৃদয় হত্যা মামলায় এনামুর রহমানকে একই বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার আবেদন করে পুলিশ। সেদিন আদালত চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দেন। এর পর থেকে বিভিন্ন মামলায় তিনি কারাগারে আছেন।
দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৯ (সাভার) আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন এনামুর রহমান। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন তিনি। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন এনামুর। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামের কাছে হেরে যান তিনি।