নিজেদের সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠন করেছে জাতীয় নাগরিক কমিটি। পুনর্গঠিত কমিটিতে আটজনকে যুগ্ম আহ্বায়ক, আটজনকে যুগ্ম সদস্যসচিব, পাঁচজনকে সহমুখপাত্র, চারজনকে যুগ্ম মুখ্য সংগঠক এবং ১৪ জনকে সংগঠক করা হয়েছে। এই ৩৯ জন বাদে জাতীয় নাগরিক কমিটির অন্যরা (৬৮ জন) কমিটিতে সদস্য হিসেবে থাকছেন।
আজ সোমবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠনের কথা জানান জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী ও সদস্যসচিব আখতার হোসেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত বাস্তবায়নের কার্যক্রমকে সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে এবং জুলাই অভ্যুত্থানের স্পিরিটকে সমুন্নত রাখতে জাতীয় নাগরিক কমিটির সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠন করা হয়েছে।’ শুরু থেকে নাসীরুদ্দীন ও আখতারের সঙ্গে কমিটির মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করছিলেন সামান্তা শারমিন। সোমবার সন্ধ্যায় সারজিস আলমকে কমিটির মুখ্য সংগঠক পদে মনোনীত করা হয়েছে।
জাতীয় নাগরিক কমিটির পুনর্গঠিত কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে আটজনকে। তাঁরা হলেন আরিফুল ইসলাম আদীব, আলী আহসান জোনায়েদ, মনিরা শারমিন, সারোয়ার তুষার, মানজুর–আল–মতিন, তাসনিম জারা, আতিক মুজাহিদ ও আশরাফ উদ্দিন মাহদি। যুগ্ম সদস্যসচিব করা হয়েছে আটজনকে। তাঁরা হলেন আবদুল্লাহ আল–আমিন, এস এম সাইফ মোস্তাফিজ, রাফে সালমান রিফাত, অনিক রায়, নাহিদা সারওয়ার চৌধুরী, অলিক মৃ, মাহবুব আলম ও মাহমুদা মিতু।
কমিটিতে পাঁচজনকে সহমুখপাত্র করা হয়েছে। তাঁরা হলেন সালেহউদ্দিন সিফাত, মুশফিক উস সালেহীন, আরেফীন মোহাম্মদ হিজবুল্লাহ, তাহসীন রিয়াজ ও মোহাম্মদ মিরাজ মিয়া। যুগ্ম মুখ্য সংগঠক করা হয়েছে চারজনকে। তাঁরা হলেন মো. নিজাম উদ্দিন, আকরাম হুসেইন, এস এম শাহরিয়ার ও মোহাম্মদ আতাউল্লাহ। এ ছাড়া ১৪ জনকে করা হয়েছে সংগঠক। তাঁরা হলেন মশিউর রহমান, ফয়সাল মাহমুদ শান্ত, হাসান আলী, সাগুফতা বুশরা মিশমা, মেসবাহ কামাল মুন্না, প্রীতম দাশ, মাজহারুল ইসলাম ফকির, তানজিল মাহমুদ, সাইফুল্লাহ হায়দার, নাঈম আহমাদ, আবু সাঈদ লিওন, সাকিব মাহদী, জোবায়রুল হাসান আরিফ ও আলী নেছার খান।
জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্যসংখ্যা এখন ১০৭ জন। জানতে চাইলে কমিটির মুখপাত্র সামান্তা শারমিন প্রথম আলোকে বলেন, যে ৩৯ জনকে বিভিন্ন পদে রাখা হয়েছে, তাঁরা বাদে অন্যরা কমিটির সদস্য হিসেবে থাকবেন।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। সেই অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। অভ্যুত্থানের শক্তিকে সংহত করে দেশ পুনর্গঠনের লক্ষ্যে অভ্যুত্থানের নেতাদের উদ্যোগে গত সেপ্টেম্বরে যাত্রা শুরু করে জাতীয় নাগরিক কমিটি।
জাতীয় নাগরিক কমিটি একটি তারুণ্যনির্ভর নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছে। এরই অংশ হিসেবে দেশের থানা ও উপজেলা পর্যায়ে কমিটি করছে তারা। এখন পর্যন্ত দেশের ৪৪টি থানা ও উপজেলায় প্রতিনিধি কমিটি করেছে জাতীয় নাগরিক কমিটি। এর মধ্যে ঢাকার থানা ১৯টি, বাকি ২৫টি থানা-উপজেলা ঢাকার বাইরের। প্রতিনিধি কমিটিগুলো আগামী ৬০ দিনের মধ্যে আহ্বায়ক কমিটিতে রূপান্তরিত হওয়ার কথা রয়েছে। চলতি ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশের সব থানায় কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছে তারা।