সাগর–রুনি হত্যার বিচার দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন সাংবাদিক নেতারা। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি। ৬ এপ্রিল
সাগর–রুনি হত্যার বিচার দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন সাংবাদিক নেতারা। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি। ৬ এপ্রিল

সরকার যায়, সরকার আসে সাগর–রুনি হত্যার তদন্ত হয় না, ক্ষোভ সাংবাদিকদের

সরকার যায়, সরকার আসে। কিন্তু সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহরুন রুনি নির্মম হত্যার তদন্ত হয় না। বিগত সরকারগুলো চায়নি বলেই এই তদন্ত হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন সাংবাদিক নেতারা। দীর্ঘ ১৪ বছরেও এ হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়ায় তাঁরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

আজ সোমবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) আয়োজনে সাগর–রুনি হত্যার বিচার দাবিতে এক প্রতিবাদ সমাবেশে এ কথা বলেন বক্তারা।

সমাবেশে সাংবাদিক নেতারা বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো সরকারই এ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে আন্তরিকতা দেখায়নি। না হলে এত দীর্ঘ সময় লাগার কথা নয়। একে একে তিনটি সরকার ক্ষমতায় এলেও মামলার উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ ১২৫ বার পেছানো হয়েছে। এমন চাঞ্চল্যকর মামলায় এতবার সময় পেছানোর নজির আছে কি না, তা জানা নেই।

নতুন সরকার এ হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে আন্তরিক হবে, এমনটাই আশা করছেন বক্তরা। এ বিষয়ে সরকারের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণাও দেন তাঁরা। তাঁদের ভাষ্য, এত বছরেও বিচার না হওয়া শুধু সাংবাদিক সমাজের জন্য লজ্জার নয়, বরং স্বাধীন দেশের মানসম্মানের প্রশ্ন।

সমাবেশে সাংবাদিক নেতারা বলেন, এ পর্যন্ত চারটি সংস্থাকে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হলেও কেউই প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। অন্তর্বর্তী সরকার আশ্বাস দিয়েছিল, এ হত্যার তদন্ত করবে, তারাও করেনি। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিআইবি), পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের প্রধানসহ এই হত্যার তদন্তের জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছিল। সেই টাস্কফোর্সের মেয়াদও শেষের দিকে।

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক হারুনুর রশিদ স্বপন বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অগ্রগতির কথা বলা হলেও ১৪ বছরে তার বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায়নি। যারা অগ্রগতির কথা বলেছিল, তারাই মামলাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে।

আরকে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মনোজ রায় বলেন, কোনো সরকারই এই হত্যা মামলার তদন্ত করতে দেয়নি। এ কারণে সরকার আসে, সরকার যায়, কিন্তু নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তের ফলাফল জানা যায় না।

ডিআরইউর সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসানের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন সংগঠনের সভাপতি আবু সালেহ আকন, সাবেক সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশাহ, মাছরাঙা টেলিভিশনের হেড অব নিউজ হামিদুল হক, ডিআরইউর জ্যেষ্ঠ সদস্য মশিউর রহমান, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা সম্পাদক মাহমুদ সোহেলসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় এই সাংবাদিক দম্পতি নৃশংসভাবে খুন হন। সাগর মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক ছিলেন। রুনি ছিলেন এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক।