বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের তিনজন সদস্যকে দুজন মন্ত্রী ও একজন প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে পদায়নের বৈধতা নিয়ে করা রিট আবেদনটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকার্টের অবকাশকালীন বেঞ্চ আজ সোমবার রিটটি কার্যতালিকা থেকে ডিলিট (মুছে দেওয়া) করে দিয়েছেন।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রাশেদুল হক খোকন আবেদনকারী হয়ে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় ২১ সেপ্টেম্বর ওই রিট দায়ের করেন। আদালতের আজকের কার্যতালিকায় রিটটি ২০৬ নম্বর ক্রমিকে ওঠে।
আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী চঞ্চল কুমার বিশ্বাস, মো. ইমরান মিয়া ও মিয়া মোহাম্মদ ইশতিয়াক শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জসীম সরকার, মোহাম্মদ ইমাম হোসেন ও শিহাব উদ্দিন খান।
পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ওই পদায়নের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শের কথা উল্লেখ রয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্টের জিএ কমিটি (জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কমিটি)। দ্বৈত বেঞ্চের একজন বিচারপতি সুপ্রিম কোর্টের জিএ কমিটির সদস্য। রিটটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন।
তবে অবকাশের পর (২৫ অক্টোবর) হাইকোর্টের নিয়মিত বেঞ্চে রিটটি শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন রিট আবেদনকারীর আইনজীবী চঞ্চল কুমার বিশ্বাস।
রিট আবেদনে বলা হয়, আইন ও বিচার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব জি এম ফারহান ইসতিয়াককে (যুগ্ম জেলা জজ) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে পদায়ন করে গত ৯ মার্চ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর আগে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আইন ও বিচার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) কামরুল হাসানকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব হিসেবে বদলি করা হয়। চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু বকর সিদ্দিককে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব (সিনিয়র সিভিল জজ) হিসেবে পদায়ন করে ১৬ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শের কথা উল্লেখ রয়েছে।
রিটের প্রার্থনায় দেখা যায়, জুডিশিয়াল সার্ভিসের তিনজন সদস্যের পদায়ন–সংক্রান্ত গত ২৫ ফেব্রুয়ারি, গত ৯ মার্চ ও ১৬ সেপ্টেম্বরের স্মারকগুলো কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, এ বিষয়ে রুল চাওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের জুডিশিয়াল সার্ভিস গঠন বিধিমালার তফসিলে নির্ধারিত পদগুলোর বাইরে কোনো বিচারিক কর্মকর্তাকে বদলি বা নিয়োগ করা থেকে বিরত থাকতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, সে বিষয়েও রুল চাওয়া হয়েছে রিটে। রুল হলে তা বিচারাধীন অবস্থায় ওই তিনটি স্মারকের কার্যক্রম স্থগিত এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে তাঁদের প্রত্যাহার করে জুডিশিয়াল সার্ভিসে পদায়নের জন্য নির্দেশনা চাওয়া হয় রিটে।