
শান্তিতে নোবেল পুরস্কারজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে শ্রম আইন লঙ্ঘন ও দুর্নীতির মামলা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে বিশ্বের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃস্থানীয় দেড় শতাধিক ব্যক্তির খোলা চিঠি পাঠানোর বিষয়টি জাতিসংঘের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে উঠে এসেছে। সেই সঙ্গে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের সাম্প্রতিক আদেশ নিয়েও ব্রিফিংয়ে কথা হয়েছে।
এসব বিষয়ে গতকাল সোমবার জাতিসংঘের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিখের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। ব্রিফিংয়ে একজন বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে ১৬০ জন বিশ্বনেতা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে খোলাচিঠি পাঠিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও শতাধিক নোবেল বিজয়ী আছেন। খোলাচিঠিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ড. ইউনূস বিচারিক হয়রানির নিশানা হয়েছেন। তাঁরা বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের নিশ্চয়তা এবং সবার মানবাধিকার রক্ষার বিষয়ে গুরুত্বারোপও করেছেন।
এখন প্রশ্ন হলো, ড. ইউনূসকে ঘিরে গুরুতর এই পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ মহাসচিবের অবস্থান কী?
জবাবে স্টিফেন ডুজারিখ বলেন, ‘আমরা এর আগেও এটা বলেছি, বাংলাদেশে আসন্ন সাধারণ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে—আমরা ভীষণভাবে এটা দেখতে চাই। আমার ধারণা, সবাই তা–ই চায়। আর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিষয়টি আমি এখনো জানি না। আমি এই বিষয়ে জানার চেষ্টা করব।’
এরপর প্রশ্নকারী বলেন, বাংলাদেশ সরকার সব মাধ্যমে বিরোধী দলের নেতার বক্তব্য বন্ধ (ব্লক) করছে। দেশটির আদালত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সম্প্রতি দেওয়া সব ভিডিও বার্তা মুছে ফেলতে টেলি নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছেন এবং মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি করতে যাওয়া একজন...
এ পর্যায়ে স্টিফেন ডুজারিখ বলেন, ‘প্রশ্নটা কী? আমি চাইব এই ব্রিফিংয়ে প্রশ্নে গুরুত্ব দিতে, বিবৃতিকে অনুৎসাহিত করব। এটা শুধু আপনার উদ্দেশে বলছি না, সবার উদ্দেশেই বলছি। কিন্তু প্রশ্নটা কী?’
তখন প্রশ্নকারী বলেন, ‘আমার প্রশ্ন হলো, কোনো একজন দেশের বাইরে থেকে সরকারের সমালোচনা করছে, হয়তো পিএচডি শিক্ষার্থী, কিন্তু তাঁর মাকে বাংলাদেশে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কীভাবে একটি দেশ বা জাতিসংঘের সদস্যরাষ্ট্র...’
প্রশ্ন শেষ করার আগেই স্টিফেন ডুজারিখ বলেন, ‘আমি সুনির্দিষ্ট এই বিষয় সম্পর্কে এখনো জানি না। তবে আমি আপনাকে এটা বলতে পারি যে আমরা বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে চাই।’