প্রার্থিতা ফিরে পেতে কুমিল্লা–১০ আসনে বিএনপির মো. আবদুল গফুর ভূঁইয়ার করা লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ।
প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বিভাগ আজ রোববার এ আদেশ দেন। ফলে আবদুল গফুর ভূঁইয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করতে পারছেন না।
একই আসনে বিএনপির আরেক প্রার্থী মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া। হাইকোর্টের আদেশে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক বরাদ্দসহ তাঁর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথ খোলে। হাইকোর্টের এই আদেশের বিরুদ্ধে একই আসনে বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী হাসান আহমেদ আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন। লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে আজ আদেশ দিলেন আপিল বিভাগের একই বেঞ্চ। অর্থাৎ তিনি (হাসান আহমেদ) আপিল করার অনুমতি পেলেন।
আদেশের পর হাসান আহমেদের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আপিল বিভাগ লিভ (আপিল করার অনুমতি) দিয়েছেন। আদালত বলেন, মোবাশ্বের নির্বাচন করতে পারবেন। লিভ মঞ্জুর হওয়ায় হাসান আহমেদ আপিল করবেন। এই আপিলের সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে মোবাশ্বরের নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারিত (প্রার্থিতা বৈধ–অবৈধ) হবে।’
এর আগে প্রার্থিতা ফিরে পেতে মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে মোবাশ্বের আলম হাইকোর্টে রিট করেন। তাঁর করা রিটের শুনানি নিয়ে গত ২৫ জানুয়ারি হাইকোর্ট রুল দিয়ে মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেন। একই সঙ্গে তাঁকে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক বরাদ্দ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। তিনি ইতিমধ্যে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন।
হাইকোর্টের এই আদেশের বিরুদ্ধে একই আসনের প্রার্থী হাসান আহমেদ আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন। এই লিভ টু আপিলের ওপর ৩০ জানুয়ারি শুনানি শেষ হয়। সেদিন আপিল বিভাগ আদেশের জন্য আজকের দিন রাখেন। লিভ মঞ্জুর (আপিল করার অনুমতি) করে আজ আদেশ দেন আপিল বিভাগ।
আদালতে হাসান আহমেদের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন শুনানি করেন। মোবাশ্বের আলমের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আখতার ইমাম ও সৈয়দ মামুন মাহবুব এবং আইনজীবী জ্যোর্তিময় বড়ুয়া ও এস এম শামীম হোসেন। ব্যাংক এশিয়ার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম।
কুমিল্লা–১০ আসনে বিএনপির গফুর ভূঁইয়া দ্বৈত নাগরিক অভিযোগ করে ইসিতে আপিল করেন একই আসনে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তি জোটের প্রার্থী কাজি নুরে আলম সিদ্দিকি। ১৮ জানুয়ারি শুনানির পর গফুর ভূঁইয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
প্রার্থিতা ফিরে পেতে মনোনয়নপত্র বাতিল করে ইসির দেওয়া সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে গফুর ভূঁইয়া হাইকোর্টে রিট করেন। শুনানি নিয়ে ২২ জানুয়ারি হাইকোর্ট রিট সরাসরি খারিজ করে দেন।
প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে গফুর ভূঁইয়া লিভ টু আপিল করেন। লিভ টু আপিলের ওপর গত বুধ ও বৃহস্পতিবার শুনানি হয়। সেদিন শুনানি শেষে আপিল বিভাগ আজ আদেশের জন্য দিন রাখেন। লিভ টু আপিল খারিজ করে আজ আদেশ দিলেন আপিল বিভাগ।
আদালতে গফুর ভূঁইয়ার পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফিদা এম কামাল ও বি এম ইলিয়াস কচি শুনানিতে ছিলেন। নুরে আলম সিদ্দিকির পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন।
পরে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘গফুর ভূঁইয়ার লিভ টু আপিল খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। কারণ, তিনি দ্বৈত নাগরিক এবং এই তথ্য গোপন করেছেন। পরে তিনি কিছু কাগজ দিয়েছেন। তবে নাগরিকত্ব ত্যাগের চূড়ান্ত কাগজপত্র দিতে পারেননি। লিভ টু আপিল খারিজ হওয়ায় গফুর ভূঁইয়া নির্বাচন করতে পারবেন না।’