পবিত্র হজ পালনে বাংলাদেশ থেকে এ বছর প্রায় ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রী সৌদি আরব যাবেন। তাঁদের মধ্যে ৪ হাজার ৫৬৫ জন সরকারি ব্যবস্থাপনায় আর ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে হজ পালন করবেন। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ধর্ম মন্ত্রণালয় এ কথা জানিয়েছে।
বাংলাদেশ থেকে এ বছরের প্রথম হজ ফ্লাইটটি গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ২০ মিনিটে যাত্রা করে। ৪১৮ জন হজযাত্রী নিয়ে ফ্লাইটটি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবের জেদ্দার বাদশাহ আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।
এর আগে রাত সাড়ে ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। সেখানে তিনি সরাসরি প্রথম ফ্লাইটের উড়োজাহাজে যান। প্রধানমন্ত্রী হজযাত্রীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। পরে তিনি হজযাত্রীদের সাফল্য কামনা করে মোনাজাতে অংশ নেন। মোনাজাত শেষে তিনি হজযাত্রীদের কাছে দেশের জনগণ ও সরকারের জন্য দোয়া চান। রাত ১২টার কিছুক্ষণ আগে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে হজ ফ্লাইটের উদ্বোধন করেন।
এ সময় ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা ও প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ জাফের এইচ বিন আবিয়াহ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী আশকোনা হজ ক্যাম্পে যান। সেখানে তিনি হজযাত্রীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, বর্ধিত ফ্লাইট শিডিউল ও উড়োজাহাজ ভাড়া কমানোসহ সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পরই হজ ফ্লাইট শুরু হচ্ছে।
এ বছর মোট হজযাত্রীর প্রায় অর্ধেক বহন করবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। বাকি হজযাত্রীদের বহন করবে সৌদিয়া ও ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস। প্রথম দিনে মোট ১৪টি ফ্লাইট পরিচালনার কথা রয়েছে।
আগামী ২১ মে হজ-পূর্ব ফ্লাইট শেষ হবে। এ বছর মোট ২০৭টি হজ-পূর্ব ফ্লাইট নির্ধারিত রয়েছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ১০২টি, সৌদিয়া ৭৫টি এবং ফ্লাইনাস ৩০টি ফ্লাইট পরিচালনা করবে।
চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে আগামী ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী ৩০ মে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে। ফিরতি ফ্লাইট চলবে ১ জুলাই পর্যন্ত।
হজযাত্রীদের জন্য শুভেচ্ছা উপহার পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসব উপহারসামগ্রী ইতিমধ্যে ঢাকা হজ অফিসে পৌঁছেছে। হজ অফিসের পরিচালক মো. লোকমান হোসেন এ কথা জানিয়েছেন।
হজ অফিসের পরিচালক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আল্লাহর মেহমানদের (হজযাত্রী) জন্য কয়েক ধরনের উপহারসামগ্রী পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে এক লাখ বোতল মিনারেল ওয়াটার রয়েছে, যা ক্যাম্পে আসা হজযাত্রীদের সরবরাহ করা হচ্ছে।
এ ছাড়া উদ্বোধনী ফ্লাইটের হজযাত্রীদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ব্যাকপ্যাক, ইহরাম সাবান, পানির পট, পেট্রোলিয়াম জেলি, মিসওয়াক ও আজওয়া খেজুর পাঠানো হয়েছে। এসব উপহারসামগ্রী প্যাকেটজাত করে উদ্বোধনী ফ্লাইটের হজযাত্রীদের দেওয়া হবে।