প্রথম আলোতে প্রকাশিত সংবাদের স্ক্রিনশট
প্রথম আলোতে  প্রকাশিত সংবাদের স্ক্রিনশট

অবৈধ ঋণ অ্যাপগুলোর বিষয়ে সতর্ক করল বিএফআইইউ

সহজ শর্তে দ্রুত ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে পরিচালিত অনুমোদনহীন মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে চলা ঋণ কার্যক্রম থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। গতকাল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সতর্কতা জারি করেছে বাংলাদেশ।

এর আগে ২৩ আগস্ট ‘মুঠোফোনে ঋণের ভয়ংকর ফাঁদ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয় প্রথম আলোতে। প্রতিবেদনে ফেসবুকের বিজ্ঞাপন ও গুগল প্লে স্টোর ঘেঁটে বাংলাদেশে ঋণ কার্যক্রম চালানো অন্তত ৩০টি অ্যাপের কথা উল্লেখ করা হয়। এসব অ্যাপ থেকে ঋণ নিয়ে হয়রানির শিকার হয়েছেন এমন ভুক্তভোগীদের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক গ্রুপ ও অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে সহজ শর্তে দ্রুত ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অনুমোদনবিহীন ঋণ কার্যক্রম চালাচ্ছে। এসব অ্যাপ ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য, মুঠোফোনের যোগাযোগ তালিকা, ছবি ও অন্যান্য স্পর্শকাতর তথ্য সংগ্রহ করছে। পরবর্তী সময়ে ঋণ আদায়ের নামে গ্রাহকদের ওপর অযাচিত চাপ, ভয়ভীতি প্রদর্শন, ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের হুমকি ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ও প্রচলিত আইন-বিধি অনুসরণ ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান মোবাইল অ্যাপ, ওয়েবসাইট বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে না। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ২(শ)(৫) ধারা অনুযায়ী প্রতারণামূলকভাবে ঋণ কার্যক্রমের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ মানি লন্ডারিং-সম্পৃক্ত অপরাধ এবং একই আইনের ৪ নম্বর ধারায় শাস্তিযোগ্য।

সাধারণ মানুষকে চারটি বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলেছে সংস্থাটি—কোনো মোবাইল অ্যাপ, ওয়েবসাইট বা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে ঋণ নেওয়া থেকে বিরত থাকা; প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ শাস্তিযোগ্য অপরাধ জেনে এ ধরনের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত না হওয়া; অপরিচিত কোনো অ্যাপ বা প্ল্যাটফর্মে জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক হিসাবের তথ্য, ব্যক্তিগত ছবি বা মুঠোফোনের সংবেদনশীল তথ্য না দেওয়া; এবং ঋণ দেওয়ার আগে অগ্রিম অর্থ, নিবন্ধন ফি বা প্রসেসিং ফি দাবি করা হলে সতর্ক থাকা।

বিএফআইইউর নজরে আসা ৩১টি অননুমোদিত ঋণদাতা অ্যাপের মধ্যে রয়েছে—সাথী লোন, পপক্যাশ, ফিনক্যাশ, কুইক লোন, কুইক টাকা, ঢাকা ফিন, লোনভাইব, দোস্ত লোন, টাকা ক্যাশ লোন, কেওয়নজা লোন, এসএসএইচ মানি, লোনবাডি, সাথি লোন, ক্যাশহোরা, আলো ক্যাশ, ফাস্ট লোন, ইজি টাকা, ধৈর্য লোন, ফিন ডট ডু, টাকা ক্যাশ লোন, বঙ্গক্যাশ, আশা লোন, সুবিধা লোন, স্মার্ট লোন বিডি, অনলাইন লোন বিডি, সিটি অনলাইন লোন, বিডি সহজ লোন, ক্যাশ লোন, সোনালী, লোনহাট ও টাকানাও।

এসব অনুমোদনহীন প্ল্যাটফর্ম থেকে ঋণ নিয়ে প্রতারিত হলে অথবা এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনাকারী কোনো অ্যাপ, প্ল্যাটফর্ম, গ্রুপ, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের তথ্য জানা থাকলে বিএফআইইউর ওয়েবসাইটে অভিযোগ করা যাবে বলে জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।