ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে লেবার পার্টির কর্মসূচি

চলতি সংসদ অধিবেশনেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি তোলা হয়েছে একটি কর্মসূচি থেকে। শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে বাংলাদেশ লেবার পার্টি। সেখানে সাংবাদিক, আইনজীবী ও রাজনৈতিক দলের নেতারা বক্তব্যে এ দাবি জানান।

অবস্থান কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোয় ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে কিছু লিখলেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হচ্ছে। প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি এই আইন করা হয়েছে শুধু ভিন্নমত দমনের জন্যই।

বিশেষ অতিথি দৈনিক নয়াদিগন্ত সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, যখনই কোনো বিশেষ আইন প্রণয়ন করা হয়েছে, তা মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে রুদ্ধ করার জন্যই করা হয়েছে। সব ধরনের ভিন্নমত নিয়ন্ত্রণ করার জন্য এই আইন করা হয়েছে।

সাংবাদিক মোস্তফা কামাল মজুমদার বলেন, ক্ষমতার রাজনীতিতে ক্ষমতাসীনদের দুর্নীতি-অপকর্মের বিরুদ্ধে স্বাধীন সাংবাদিকতা এক বড় প্রতিবন্ধকতা। গণমাধ্যমের ওপর নানাভাবে সরকারের নিয়ন্ত্রণ থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা প্রায় অসম্ভব। ফলে সরকার এখন একটি ভীতিকর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আশ্রয় নিচ্ছে। বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৫৭ ধারায় ইতিমধ্যে শত শত মামলা হয়েছে। এসব মামলার বেশির ভাগই মূলত রাজনৈতিক কর্মী ও সরকারের সমালোচকদের বিরুদ্ধে।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সহসম্পাদক সাইফুর রহমান বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার বর্তমান সরকার। তারাই আবার মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, মুক্ত গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় নতুন প্রজন্মকে বিপরীত অবস্থানে ঠেলে দেবে, তা কারও কাছে প্রত্যাশিত নয়।

কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য দেন আইনজীবী জোহরা খাতুন, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) একাংশের মহাসচিব নুরুল আমীন, এনডিপির চেয়ারম্যান আবু তাহের, লেবার পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান রামকৃষ্ণ সাহা, শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের মহাসচিব মো. জাকির হোসেন প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন লেবার পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম।