‘দ্য হাঙ্গার প্রজেক্ট’–এর লোগো
‘দ্য হাঙ্গার প্রজেক্ট’–এর লোগো

সামাজিক সম্প্রীতি জোরদারে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে ‘বৈচিত্র্য ও সম্প্রীতি উৎসব’

ধর্ম ও বিশ্বাসের স্বাধীনতা এবং সামাজিক সম্প্রীতি জোরদারে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে ‘বৈচিত্র্য ও সম্প্রীতি উৎসব’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাব্রতী সংস্থা ‘দ্য হাঙ্গার প্রজেক্ট’ এই উৎসবের আয়োজন করে।

আজ রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় এই উৎসব হয়।

আত্মনির্ভরশীল, সমৃদ্ধ ও মর্যাদাবান বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দেশে তিন দশক ধরে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাব্রতী সংস্থা ‘দ্য হাঙ্গার প্রজেক্ট’। ধর্ম, বিশ্বাস ও সম্প্রীতির ঐতিহ্য লালন করে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সংস্থাটি যুক্তরাজ্য সরকারের সহায়তায় ‘এজেন্টস অব চেঞ্জ: এ বাংলাদেশ ফ্রিডম অব রিলিজিয়ন অর বিলিভ লিডারশিপ ইনিশিয়েটিভ’ কর্মসূচি পরিচালনা করছে।

এ কর্মসূচির আওতায় দেশের নয়টি জেলায় তরুণ স্বেচ্ছাব্রতীদের নেতৃত্বে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় বিভিন্ন কার্যক্রম চলছে। স্থানীয় নাগরিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতারা এসব উদ্যোগে সহযোগিতা করছেন।

উৎসবে দ্য হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর প্রশান্ত ত্রিপুরা, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য ইলিরা দেওয়ান, চার্চ অব ইংল্যান্ডের ডিরেক্টর অপারেশন্স চার্লস রীড, ব্রিটিশ হাইকমিশনের গভর্ন্যান্স অ্যাডভাইজার শাহনাজ করিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সাবেক উপ-প্রকল্প পরিচালক (প্রশাসন) মুহাম্মদ রফিক-উল ইসলাম, দ্য হাঙ্গার প্রজেক্টের জ্যেষ্ঠ প্রোগ্রাম ম্যানেজার শশাঙ্ক বরণ রায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

দ্য হাঙ্গার প্রজেক্টের কান্ট্রি ডিরেক্টর প্রশান্ত ত্রিপুরা বলেন, বৈচিত্র্যপূর্ণ বহু জাতি সংস্কৃতির দেশ বাংলাদেশ। মানুষ দলবদ্ধতার মধ্যে দিয়েই সমাজ গড়ে তোলে। সাধারণ মানুষের মনে স্থায়ী ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারলে সামাজিক সুরক্ষায় সবাই দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী হয়। পারস্পারিক শ্রদ্ধাবোধ ও জনকল্যাণমূলক কাজের মধ্য দিয়েই সম্প্রীতি শক্তিশালী হয়।

মানুষের চিন্তায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে তরুণেরাই অগ্রণী ভূমিকা রাখছে বলে উল্লেখ করেন চার্লস রীড। তিনি বলেন, তরুণেরা সংঘাত দেখেছে এবং সম্প্রীতির পথে যাত্রা করার সুযোগ পেয়েছে। এখন মানুষের চিন্তা–চেতনাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে তরুণেরাই অগ্রণী ভূমিকা রাখছে। স্থানীয় পর্যায়ে সংগঠিত ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ তরুণরাই শান্তি ও সম্প্রীতির পরিবেশ গড়ে তুলতে পারে।

শাহনাজ করিম বলেন, গুজবে কান না দিয়ে সবাইকে ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে হবে। সম্প্রীতির বাংলাদেশ নির্মাণে তরুণ ও নারীদের ভূমিকা অপরিসীম। ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত রেখে স্থানীয় নেতৃত্বকে আরও সক্রিয় হতে হবে।

রফিক-উল ইসলাম বলেন, সম্প্রীতির মূলে রয়েছে মানবকল্যাণ, নৈতিক শিক্ষা ও প্রতিবেশীর প্রতি দায়িত্ববোধ। মূল্যবোধের চর্চার মাধ্যমেই সমাজে সমতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব।