
দশম গ্লোবাল স্টুডেন্ট এন্টারপ্রেনিউর অ্যাওয়ার্ডস বা বিশ্ব শিক্ষার্থী উদ্যোক্তা পুরস্কারের (জিএসইএ) বাংলাদেশ পর্বের গ্র্যান্ড ফিনালে আজ শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশের শিক্ষার্থী উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক ধারণার উপস্থাপন নিয়ে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এন্টারপ্রেনিউরস অর্গানাইজেশন (ইও) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিযোগিতার বাংলাদেশ পর্বের গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ড্রাগন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি), জিএসইএ ও এন্টারপ্রেনিউরস অর্গানাইজেশন (ইও) বাংলাদেশের চেয়ার মোস্তাফা কামরুস সোবহান এবং র্যাংগস মোটরসের এমডি ও ইও বাংলাদেশের সভাপতি সোহানা রউফ চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন আইডিয়া প্রকল্পের পরিচালক মুর্তুজা জুলকার নাইন নোমান। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নেতারা, নীতিনির্ধারক, বিনিয়োগকারী, করপোরেট অংশীদার এবং ইও কমিউনিটির সদস্যরা অংশ নেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জিএসইএ বাংলাদেশ ২০২৫–২৬-এর চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী মো. রেজওয়ানুল ইসলাম। তাঁর ব্যবসায়িক উদ্যোগ ‘ইকো সেন্টিনেলস’ দেশের লবণাক্ততার বিরুদ্ধে সহনশীলতা গড়ে তোলা এবং ভাসমান কৃষি নিয়ে কাজ করে।
প্রতিযোগিতায় রানারআপ নির্বাচিত হন ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের (বিবিএ) শিক্ষার্থী কাজী আহম্মেদ ইনকিয়াদ। তাঁর ব্যবসায়িক উদ্যোগ ‘পলিজুট লিমিটেড’, যা পাটের সেলুলোজ থেকে তৈরি জৈব প্যাকেজিং সমাধান উৎপাদন করছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতিযোগিতার বাংলাদেশ পর্বের জন্য এন্টারপ্রেনিউরস অর্গানাইজেশন মোট ১০ লাখ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করেছে। গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠানটি আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টায় একুশে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত হবে।
মো. রেজওয়ানুল ইসলাম গ্লোবাল জিএসইএ ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। সেখানে মোট বৈশ্বিক পুরস্কারমূল্য এক লাখ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও নেপালের অংশগ্রহণে দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক ফাইনাল আয়োজন করা হবে। এরপর আগামী মার্চ মাসে গ্লোবাল কোয়ার্টার ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। আগামী জুলাই মাসে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে গ্লোবাল ফাইনাল আয়োজন করা হবে।
অনুষ্ঠানে ড্রাগন গ্রুপের এমডি এবং জিএসইএ ও এন্টারপ্রেনিউরস অর্গানাইজেশন (ইও) বাংলাদেশের চেয়ার মোস্তাফা কামরুস সোবহান বলেন, জিএসইএ শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়; এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বৈশ্বিক উদ্যোক্তাদের গড়ে তোলার একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম। বিশ্বমঞ্চে প্রতিযোগিতার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা, মেন্টরশিপ ও সুযোগ–সুবিধা দিয়ে ইও বাংলাদেশ শিক্ষার্থী উদ্যোক্তাদের পাশে থাকবে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিচারকমণ্ডলীতে ছিলেন ইও বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, সিটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও আনোয়ার গ্রুপের এমডি হোসেন খালেদ; আইডিয়ার জ্যেষ্ঠ পরামর্শক সিদ্ধার্থ গৌসামী; ড্রাগন গ্রুপের এমডি মোস্তাফা কামরুস সোবহান; র্যাংগস মোটরসের এমডি সোহানা রউফ চৌধুরী; নিট এশিয়া ও অরাম সুইটার লিমিটেডের পরিচালক আমের সালিম এবং অ্যাপেক্স প্রোপার্টি লিমিটেডের পরিচালক কিম্বারলি হান্না কাজী।