প্রবাসী আয়

জানুয়ারিতে এল ১৭০ কোটি ডলার

ছবি: রয়টার্স
ছবি: রয়টার্স

নগদ প্রণোদনা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স তথা প্রবাসী আয় আবার বাড়তে শুরু করেছে। সদ্য সমাপ্ত জানুয়ারি মাসে প্রবাসীরা দেশে ১৭০ কোটি ৪৪ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন, যা বাংলাদেশের সাড়ে ১৪ হাজার কোটি টাকার মতো (প্রতি ডলার ৮৬ টাকা ধরে)।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী জানুয়ারিতে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ গত চার মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। তবে এ আয় গত বছরের জানুয়ারি মাসের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ কম।

ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, প্রবাসী আয়ের বিপরীতে এখন আগের চেয়ে বেশি হারে নগদ প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। আগে প্রবাসীরা অর্থ পাঠালে ২ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দেওয়া হতো। গত ১ জানুয়ারি থেকে প্রণোদনা বাড়িয়ে আড়াই শতাংশ করা হয়েছে। এ কারণে জানুয়ারি মাসে প্রবাসী আয় বেড়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের অক্টোবরে ১৬৪ কোটি, নভেম্বরে ১৫৫ কোটি ও ডিসেম্বরে ১৬৩ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় এসেছিল। তবে গত সেপ্টেম্বরে এসেছিল ১৭২ কোটি ডলার।

২০২১ সালের জুন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে প্রবাসী আয় কমেছিল। তবে সার্বিকভাবে গত বছরে দেশে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। তাঁরা ২০২১ সালে দেশে মোট ২ হাজার ২০৭ কোটি মার্কিন ডলার পাঠান, যা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। এর আগে ২০২০ সালে ২ হাজার ১৭৪ কোটি ডলার ও ২০১৯ সালে ১ হাজার ৮৩৩ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় এসেছিল।

তবে ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) যে পরিমাণ প্রবাসী আয় এসেছে, তা অবশ্য আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২১ শতাংশ কম।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বৈশ্বিক যোগাযোগব্যবস্থা চালু হওয়ায় অবৈধ পথে হুন্ডির মাধ্যমে প্রবাসী আয় আসা বেড়ে গেছে। কারণ, বৈধ পথের চেয়ে অবৈধ পথে প্রবাসী আয় পাঠালে দেশে বেশি অর্থ পাওয়া যায়। যেমন বর্তমানে ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের মূল্য যেখানে ৮৬ টাকা, সেখানে খোলাবাজারে তা ৯০ টাকার বেশি। তাই অনেক প্রবাসী বৈধ পথের পরিবর্তে অবৈধ পথে অর্থ পাঠান বলে মনে করা হয়। এ জন্য করোনার মধ্যে প্রবাসী আয়ে যে জোয়ার এসেছিল, তাতে কিছুটা ভাটা পড়ে।

করোনাভাইরাসের প্রভাব কাটিয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতি যখন ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, তখন প্রবাসীদের পাঠানো আয়ে বড় ধাক্কা লাগতে শুরু করে। ব্যাংকিং চ্যানেলে তথা বৈধ পথে প্রবাসী আয় পাঠানোর বিপরীতে প্রণোদনা বহাল থাকলেও গত নভেম্বরে যে প্রবাসী আয় আসে, তা ছিল ১৮ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।

এ ছাড়া আয় বাড়াতে অনেক ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংকিং সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান সরকারি প্রণোদনার অতিরিক্ত প্রণোদনা দিচ্ছে।