ওষুধশিল্পে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) মেধাস্বত্ব আইন মানার বাধ্যবাধকতা থেকে বাংলাদেশের আরও ১০ বছর সময় দরকার। এখনই মেধাস্বত্ব আইন মানতে বাধ্য করা হলে ওষুধের দাম এ দেশের গরিব মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে এবং সামগ্রিকভাবে দেশের স্বাস্থ্য খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
আর তাই, সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ১৫-১৬ অক্টোবর ডব্লিউটিওর বাণিজ্য–বিষয়ক মেধাস্বত্ব আইন (ট্রিপস) কাউন্সিলের দুই দিনব্যাপী যে সম্মেলন হচ্ছে, তাতে বাংলাদেশকে জোরালোভাবে দর–কষাকষি করার দাবি জানিয়েছে ইক্যুইটি অ্যান্ড জাস্টিস ওয়ার্কিং গ্রুপ বাংলাদেশ (ইক্যুইটিবিডি)।
কৃষক ও মৎস্যজীবী শ্রমিক, স্বাস্থ্যকর্মী, পেশাজীবী ও নাগরিক অধিকারভিত্তিক ৩০টি বেসরকারি সংগঠনের পক্ষে নেতৃত্বদানকারী জোট ইক্যুইটিবিডির আয়োজনে গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়।
ইক্যুইটিবিডির সদস্য মোস্তফা কামাল আকন্দের সঞ্চালনায় ‘বাংলাদেশ উন্নত দেশ না হওয়া পর্যন্ত মেধাস্বত্ব আইনের সুবিধা দিতে হবে’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন সংস্থাটির গবেষক সৈয়দ আমিনুল হক। জোটের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা এ সময় বক্তব্য দেন।
বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে ডব্লিউটিওর ট্রিপস চুক্তি মানতে হবে না বলে ছাড় দেওয়া রয়েছে চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এরপর থেকে ওই চুক্তির শর্ত মানতে হলে শুধু বাংলাদেশ নয়, সব এলডিসিরই ওষুধশিল্প বিকাশের পথ রুদ্ধ হয়ে যাবে বলে মনে করে ইক্যুইটিবিডি। জোটটির আশঙ্কা, এলডিসিগুলোকে আর কোনো সুবিধা না দেওয়ার নীলনকশা আঁকছে যুক্তরাষ্ট্র। অথচ এখনো ওষুধ তৈরির ৯৭ শতাংশ কাঁচামাল আমদানি করতে হয় বাংলাদেশকে।