
বাজারদরের চেয়ে বেশি দরে ডিলারদের কাছে পণ্য সরবরাহ করতে চাইছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। পণ্য সরবরাহ না নিলে লাইসেন্স বাতিল করে দেওয়ার হুমকিও দিচ্ছে সংস্থাটি। এই অভিযোগ টিসিবির ডিলারদের।তবে টিসিবি কর্তৃপক্ষ বলছে, ডিলারদের কোনো হুমকি দেওয়া হচ্ছে না। বরং পণ্য সরবরাহ নিতে অনুরোধ করা হচ্ছে। কিন্তু পণ্য নিচ্ছেন না ডিলাররা।
ডিলারদের জন্য ভোজ্যতেল ১০১ দশমিক ৫০ টাকা লিটার, চিনি ৪০ দশমিক ৫০ টাকা এবং ছোলা ৫২ দশমিক ৫০ টাকা কেজি নির্ধারণ করেছে টিসিবি। নিয়মানুযায়ী ডিলাররা এর সঙ্গে ৩ দশমিক ৫০ টাকা কমিশন যোগ করে খুচরা বাজারে বিক্রি করবেন। কিন্তু ডিলারদের অভিযোগ, তিনটি পণ্যেই দর বেশি রাখতে চাইছে টিসিবি। শুধু তাই নয়, নিম্নমানের পণ্য উচ্চদামে গছিয়ে দিতেও টিসিবি তৎপর।
সারা দেশে টিসিবির তিন হাজার ১০০ ডিলার রয়েছেন। ডিলারদের প্রস্তাবিত সংগঠন বাংলাদেশ টিসিবি ডিলার অ্যাসোসিয়েশন (বিটিডিএ) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে, প্রতি কেজি ছোলার পাইকারি দর ৩৬ টাকা, চিনি ৪০ টাকা এবং ভোজ্যতেল ৯৬ টাকা। সে হিসাবে বাজারমূল্য থেকে ছোলায় কেজিতে ১২ টাকা, চিনিতে ৫০ পয়সা ও সয়াবিন তেলে ৫ দশমিক ৫০ টাকা বেশি নিতে চাইছে টিসিবি।
বাজারদরের চেয়ে টিসিবি সব সময়ই পণ্যের দর বাড়িয়ে নির্ধারণ করছে বলে জানান ডিলাররা। ডিলাররা জানান, রমজানের আগে যে ছোলার বাজারদর ছিল ৫২-৫৫ টাকা, টিসিবির ছোলার দর ছিল তখন ৬০ টাকা।
এ ছাড়া চিনির বাজারদর ছিল ৪২ টাকা, টিসিবির দর ছিল ৪৪ টাকা। খোলা সয়াবিনের দর ছিল ৯৬ টাকা, টিসিবির দর ছিল ১০১ দশমিক ৫০ টাকা।
গত ২২ জুলাই বিটিডিএ বাণিজ্যমন্ত্রী গোলাম মোহাম্মদ কাদের ও বাণিজ্যসচিব মাহবুব আহমেদকে চিঠি দিয়ে তিন পণ্যে টিসিবির নির্ধারিত দর কমানোর আবেদন জানিয়েছে। ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে দাম কমানোর সময়সীমা বেঁধে দিলেও কোনো সাড়া পায়নি সংগঠনটি।
আর তাই ২৮ জুলাই টিসিবি কার্যালয়ের সামনে একই দাবিতে মানববন্ধন করেন ডিলাররা। মানববন্ধন শেষে আবারও বাণিজ্যমন্ত্রীকে চিঠি দেয় বিটিডিএ।
যোগাযোগ করা হলে টিসিবির চেয়ারম্যান সারোয়ার জাহান তালুকদার গতকাল সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘ডিলারদের দাবি অনুযায়ী আমরা মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছি। সরকারি কাজ এত তাড়াতাড়ি হয় না, তাই এটিও হতে দেরি হচ্ছে।’
টিসিবি সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ জুন থেকে টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু হয়েছে। ট্রাকের পাশাপাশি বিক্রয়কেন্দ্রে বিক্রির জন্য প্রত্যেক ডিলারকে এক হাজার থেকে পাঁচ হাজার কেজি চিনি, ৫০০ থেকে এক হাজার কেজি মসুর ডাল, ৪০০ থেকে এক হাজার লিটার ড্রামজাত এবং ২০০ লিটার পেট বোতল সয়াবিন তেল, ২০০ লিটার পাম তেল, দেড় হাজার কেজি ছোলা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
শুধু দর বেশি নয়, টিসিবির বিরুদ্ধে নিম্নমানের পণ্য এবং সেই পণ্য ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগও তোলেন ডিলাররা। আগামী ৫ আগস্টের মধ্যে ডিলারদের পণ্য উত্তোলনের কথা।
জুয়েল আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘রমজান শুরুর আগে থেকেই পণ্যের দর ও মান নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। কিন্তু সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।’
পণ্য না নিলে লাইসেন্স বাতিল করা হবে কি না, জানতে চাইলে টিসিবির চেয়ারম্যান বলেন, ‘এ ধরনের কোনো পরিকল্পনা আপাতত নেই।’
যোগাযোগ করলে বাণিজ্যসচিব মাহবুব আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘ডিলারদের দাবি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি। দাম কিছুটা কমাব। তবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে সত্যতা যাচাই ও বিশ্লেষণ করেই।’